ময়মনসিংহ মেইল

জামালপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম!

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-26 05:37:22 · স্টাফ রিপোর্টার

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই ভবনে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দুই মাস ধরে পাশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এ কারণে পাঠদানের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে ভোর থেকে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে কোমলমতি দেড়শ শিক্ষার্থীকে। ভোগান্তি নিয়েই সকালে খেয়ে না খেয়ে পাঠদান নিচ্ছেন প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী।

 ক্লাসে সময় স্বল্পতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, পাঠদান উপযোগী করতে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ ও স্থায়ী ভবনের জন্য দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

 সরেজমিনে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী গ্রামে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় কামালের বার্ত্তী রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরে ২০১৩ সালে সরকারি হয় বিদ্যালয়টি। ২০০০ সালে এই বিদ্যালয়ে এক তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এরমধ্যে কেটে প্রায় ২৫ বছর। বছর বাড়ার সাথে সাথে ভবনটির কার্য ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। 

তবুও নানা সমস্যার মধ্যেই অত্র এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে থাকেন। গত দুই মাস আগে পাঠদান চলাকালে ভবনের ছাদে বিকট শব্দ হলে তাড়াহুড়ো করে শ্রণি কক্ষ থেকে বের পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ওই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওই দিনই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একই গ্রামে অবস্থিত স্থানীয় কেবি মডেল সেসিপ উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেন।

 এরপর থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সকাল ১০টায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হয় তাই এর আগেই সকাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হয়। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ভোরে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। অনেক শিক্ষার্থীকে না খেয়ে ক্লাসে যেতে হয়। 

এ ছাড়াও সময় স্বল্পতার কারণে প্রতি ক্লাসে ৫০ মিনিটের পরিবর্তে ৩০ মিনিট পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্লাসে চাপের কারণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন বা প্রাত্যহিক সমাবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, খেলাধুলাও করতে পারছেন না এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাই দ্রুততম সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নতুন ভবন নির্মাণ করার দাবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। কয়েকজন কোমলমতি শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস করছি। আমাদের যা ক্লাস হওয়ার কথা তা হয় না।

 মাত্র আড়াই ঘণ্টার ক্লাসে সব বিষয়ে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। তাই নতুন ভবন নির্মাণে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে গিয়ে আমরা সব বিষয়ে পাঠদান করাতে পারছি না। 

প্রতিটি ক্লাসে যে সময় দেওয়া দরকার সেটা হচ্ছে না। তার আগেই কক্ষ ত্যাগ করতে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, বিদ্যালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে আবেদন করেছি। সম্প্রতি ভবনটির ছাদে বিকট শব্দের পর এই বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করে পাশের কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্রুত একটি ভবন নির্মাণ করা না হলে পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটবে এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে পাঠদান কার্যক্রম অন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিফ্ট করা হয়েছে।

 এই বিদ্যালয়ে অস্থায়ী একটি গৃহ নির্মাণের জন্য ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অস্থায়ী ঘরটি নির্মাণ হলে নিজস্ব ক্যাম্পাসেই পূর্ণ সময়ে পাঠদান শুরু হবে। বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

 পাশাপাশি কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন ভবন নির্মাণ করা যায় সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত