বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সে কে বেশি কষ্ট পায়, পুরুষ না নারী?
জীবন যাপন · 2026-09-24 08:56:04 · মেইল ডেস্ক
সম্পর্কের ইতি টানার বেদনা সর্বজনীন, তবে আবেগ প্রকাশ ও মানসিক যন্ত্রণার গভীরতায় নারী ও পুরুষের অভিজ্ঞতায় রয়েছে সূক্ষ্ম ও আকর্ষণীয় পার্থক্য। একটি সম্পর্ক যখন অনুরাগের উষ্ণতা হারিয়ে বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের শীতলতায় রূপ নেয়, তখন সেই ভাঙনের ধাক্কা হৃদয়ে যে ক্ষত তৈরি করে তা গভীর ও বহুমুখী। ভালোবাসার মানুষের হারিয়ে যাওয়া, অভ্যাসের পরিবর্তন এবং কাটানো স্মৃতির ভার যে কাউকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। তবে এই আবেগীয় ঝড়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কার কষ্ট বেশি গভীর? কে বেশি নীল হয়ে যান বিরহের কষ্টে—পুরুষ না নারী?
লাইফস্টাইল ও মনস্তত্ত্বের এই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মেক্সিকোর খ্যাতনামা মিডিয়া গ্রুপ এল দে’ভাত-এর মালিকানাধীন সম্পর্ক ও পারিবারিক বিষয়ভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘এনপারেহা ডটকম’-এ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেখানো হয়েছে, বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের প্রভাব ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে শারীরিক ও আবেগীয় যন্ত্রণার প্রকাশে নারী ও পুরুষের প্রতিক্রিয়ার ধরন ও মাত্রা অনেকটাই ভিন্ন।
যন্ত্রণার স্কেল ও পরিসংখ্যান: কে কতটা প্রভাবিত?
সম্পর্কের ইতি টানার পর মানসিক ও শারীরিক আঘাত ঠিক কতটা তীব্র হতে পারে, তা পরিমাপ করতে আচরণ বিশেষজ্ঞরা একটি নির্দিষ্ট স্কেল ব্যবহার করেছেন। তাদের গবেষণায় আবেগীয় কষ্ট এবং শারীরিক অনুভূতির ক্ষেত্রে যে উপাত্ত পাওয়া গেছে, তা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক।
আবেগীয় যন্ত্রণার তীব্রতা: মানসিক চাপ ও বিচ্ছেদজনিত বিষণ্নতার ক্ষেত্রে নারীদের গড় অনুভূত পয়েন্ট ছিল ৬ দশমিক ৮৪, অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই গড় স্কোর ছিল ৬ দশমিক ৫৮।
শারীরিক অনুভূতি ও কষ্ট: বিচ্ছেদের মানসিক চাপ অনেক সময় শরীরেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। শারীরিক কষ্টের তীব্রতায় নারীরা গড়ে ৪ দশমিক ২১ পয়েন্ট রিপোর্ট করেছেন, যেখানে পুরুষদের গড় ছিল ৩ দশমিক ৭৫।
এই পরিমাপক স্পষ্ট করে যে, সম্পর্কের সূতা ছিঁড়ে যাওয়ার প্রাথমিক ধাক্কায় নারীরা আবেগীয় এবং শারীরিক উভয় দিক থেকেই পুরুষদের তুলনায় বেশি তীব্র যন্ত্রণা ও অস্বস্তির মুখোমুখি হন।
আবেগ প্রকাশের ধরন ও সামলে ওঠার বিপরীতমুখী চিত্র
বিচ্ছেদের ধাক্কা কাটিয়ে উঠার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর সামাজিক আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়াকরণের মধ্যেও বড় ধরনের ফারাক দেখা যায়।
গবেষণায় উঠে এসেছে, নারীরা সাধারণত নিজেদের কষ্ট ও আবেগ খোলাখুলি প্রকাশ করতে দ্বিধা করেন না। তারা অনুভূতির কথা কাছের বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করেন এবং মানসিক সমর্থন চান। আবেগ লুকিয়ে না রেখে তা প্রকাশের এই স্বভাব দীর্ঘমেয়াদে তাদের মনের ভেতরের ক্ষত নিরাময়ে এবং বাস্তবতা মেনে নিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, সামাজিক রীতিনীতি ও পারিপার্শ্বিক সংস্কৃতির প্রভাবে পুরুষরা প্রায়ই নিজেদের আবেগ সংবরণ বা চেপে রাখতে বাধ্য হন। নিজেদের কষ্ট লুকিয়ে রাখা বা প্রকাশ না করার এই সামাজিক অভ্যাসের কারণে ভেতরে ভেতরে জমাটবাঁধা বিরহ তাদের আবেগীয় পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে অনেক ধীরগতি করে দেয়।
প্রতিবেদন ও গবেষণা থেকে সংক্ষেপে বলা যায়, বিচ্ছেদের প্রাথমিক মুহূর্তে নারীরা তীব্র শারীরিক ও মানসিক আঘাত অনুভব করলেও প্রিয়জনদের সান্নিধ্য ও আবেগ প্রকাশের মাধ্যমে তা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠেন। অপরদিকে, অনুভূতির প্রকাশ চেপে রাখার মানসিকতার কারণে পুরুষদের কষ্ট বাইরে কম দৃশ্যমান হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা তাদের মনে অবস্থান করে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বেশি সময় নেয়।