‘বিরূপ প্রতিক্রিয়া’ হবে, তাই জামিন হলো না এমপি নজরুলের
বাংলাদেশ · 2026-10-07 09:58:02 · স্টাফ রিপোর্টার
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় শ্বশুরকুলের সঙ্গে আপস করেও জামিন পেলেন না সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা জি এম নজরুল ইসলাম। তার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আজ বুধবার তা নাকচ করে দেন ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম।এ আদেশের কারণ ব্যাখ্যা করে বিচারক বলেছেন, আসামি শুধু বয়স্ক, এ জন্য বা আপস অযোগ্য ধারার মামলায় আপসনামা দিয়েছে। কিন্তু ভিকটিম একজন অতি অল্পবয়স্ক। তিনি বিভিন্ন নোট লিখে গিয়েছেন। আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছেন। আসামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসবাসরত অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। আসামি জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সমাজে ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা হতে পারে। আসামির হাজতবাস বেশি নয়। এই পর্যায়ে তার জামিন নামঞ্জুর করা হলো।নজরুলের পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। এসময় মামলার বাদী মো. মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।বিচারক বাদীকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি আপস করেছেন?’ তখন তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ।’ ভিকটিম আপনার কি হয়, এ প্রশ্নের জবাবে মাসুম বিল্লাহ বললেন, ‘আমার মেয়ে হয়।’এরপর জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘এটা আপসযোগ্য না। আপসনামা দাখিল করা বেআইনি। এটা কোনোভাবে আদালতে দাখিল করতে পারেন না। অনেক মামলায় দেখেছি, বাদীও অনেক সময় আসামি হয়েছে। তাই প্রয়োজনে এই মামলার বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।’ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামি নজরুলের জামিন নামঞ্জুর করেন।গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকায় নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পরদিনই গ্রেপ্তার করা হয় নজরুলকে। তারপর দুদফা রিমান্ড শেষে তিনি এখন রয়েছেন কারাগারে।এ মামলায় নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি জামিন পেয়েছেন। মামলার অন্য আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান গ্রেপ্তার হয়ে রয়েছেন কারাগারে।গত জুলাই মাসে মরিয়মের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর দিয়েছিলেন। এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকার ভবনে একটি ফ্ল্যাটে মরিয়মকে নিয়ে থাকা শুরু করেন নজরুল।সেই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে পাওয়া গিয়েছিল কিছু চিরকুট, যেখানে নজরুলকে দায়ী করে নানা কথা লেখা ছিল। ওই লেখাগুলো মরিয়মের বলে পুলিশের ধারণা।মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সেদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। তার অভিযোগ, তার শ্যালক ওবায়দুরের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী।গত ৩০ সেপ্টেম্বর মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস করা হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন নজরুলের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেছিলেন, নজরুলের জামিন হলে বাদীপক্ষের আপত্তি থাকবে না।তবে আপসের শর্তে চাওয়া সেই জামিন আবেদন আদালত গ্রহণ করেননি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সেদিন বলেছিলেন, মামলাটি আপসযোগ্য নয়।মামলার বাদী মাসুম বিল্লাহ সম্পর্কে আসামি নজরুলের ভাগনে হন। সেই সূত্রে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম ছিলেন নজরুলের নাতনি।মরিয়মের মামা ওবায়দুর একসময় নজরুলের গাড়ি চালাতেন। গত জুলাইয়ে ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর ওবায়দুর একটি মামলা করেছিলেন নজরুলের বিরুদ্ধে। সেখানে তাকে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনা হয়।ওবায়দুরের দাবি, মেয়েকে সংসদ সদস্য নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন মরিয়মের বাবা-মা। তখন তিনি বাধা দিয়েছিলেন।দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর বিতর্ক ওঠায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুলকে তার দল জামায়াতে ইসলামী বহিষ্কার করে। তবে তার সংসদ সদস্য পদ এখনো টিকে আছে।