হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত সৌদি জোটের
বাংলাদেশ · 2026-10-07 08:27:50 · স্টাফ রিপোর্টার
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার জানিয়েছে, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী হুতিদের দখল করা অঞ্চল পুনরুদ্ধারে লড়াই করছে।
গত মাসে হুতিরা দ্রুত আকস্মিক অভিযানে এসব এলাকা দখল করেছিল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা দাবি করেছে, তারা রিয়াদসহ কয়েকটি বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, ইয়েমেনে আদেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার এই পাল্টাপাল্টি ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন হুতিরা সরকারি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে পিছিয়ে পড়ার দাবি অস্বীকার করেছে।
এর আগে সোমবার ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও বন্দরনগরী মোচার আশপাশের এলাকা থেকে হুতিদের সরিয়ে দিয়েছে।
আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
তবে ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের উভয় পক্ষের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সাংবাদিকদের জন্য সেখানে প্রবেশ করা কঠিন।
চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির পর, ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা লোহিত সাগরের পুরো পশ্চিম উপকূল দখল করে নেয়। সাম্প্রতিক এই অভিযান ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতকে আবারও তীব্র করে তুলেছে।
উভয়পক্ষের মধ্যে এই লড়াইয়ের ফলে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধও আরও গভীর হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং বাণিজ্যিক নৌপথে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
উভয় পক্ষের সূত্র মঙ্গলবার এএফপিকে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনী ও হুতি যোদ্ধাসহ ২৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বুধবার জানান, রিয়াদের উত্তরে হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়ার ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের উত্তরে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’
এর আগে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন নিক্ষেপ এবং আবহা বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ চালানো হয়েছে।
তার দাবি, এসব আক্রমণ ‘নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।’
এই সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো হুতিরা কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির আকাশসীমা প্রায়ই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে এসব বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেনি এবং বিমানবন্দরে কোনো হামলা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেনি।
তবে মঙ্গলবার সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের দিন ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জিজান ও নাজরান বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারের প্রধান সমর্থক এবং সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তারা বিমান সহায়তা দিচ্ছে।
এর আগে হুতি মুখপাত্র সারি জোর দিয়ে বলেছিলেন, গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে হুতিরা যে অঞ্চলগুলো দখল করেছিল, সেগুলোর সবই এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে তিনি লিখেছিলেন, ‘মাঠে আমাদের অগ্রসর হওয়া সব এলাকার ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’
সারি আরও দাবি করেন, বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এল-ওয়াজিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে হুতিদের অবস্থানের দিকে সরকারি বাহিনী অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তারা সরকারি বাহিনীকে পিছু হটিয়ে দিয়েছে।
হুতিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, হাজ্জাহ প্রদেশের একটি গ্রামে সৌদি আরবের বিমান হামলায় একটি পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে।
অন্যদিকে সরকারি বাহিনী সোমবার জানিয়েছিল, তারা ‘বিভিন্ন ফ্রন্টে সাফল্য’ অর্জন করেছে।
তবে সরকারি সামরিক সূত্রগুলো মোচা পুনর্দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
তারা শুধু জানিয়েছে, শহরটির দিকে যাওয়ার একমাত্র সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি বাহিনী আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে তারা হুতিদের সরিয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে।
মোচা থেকে পালিয়ে আদেনে আশ্রয় নেওয়া ৩৩ বছর বয়সী দাতব্য সংস্থার কর্মী মোহাম্মদ এএফপিকে বলেন, ‘সেখানকার মানুষ ভীষণ আতঙ্কিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোচায় জীবন পুরোপুরি থেমে গেছে। নগরীতে কানো চলাচলই নেই। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।”
সরকারি বাহিনী মারিব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলেও অগ্রগতির দাবি করেছে।