ময়মনসিংহ মেইল

ঝিনাইগাতীতে ছেলের চুরির অপবাদে বাবাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন : বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-06 14:07:27 · স্টাফ রিপোর্টার

 শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ছেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে খোরশেদ আলম (৫০) নামে এক কৃষককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া বাজারে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে আব্দুল মতিন, সবুজ মিয়াসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে এলাকার কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী, পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে ভারুয়া বাজারে খোরশেদ আলমকে মারধর ও হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম বাদী হয়ে নলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আজহারুল ইসলাম (সুজা) ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. শরীফ উদ্দিনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে ঝিনাইগাতী সিআর আমলী আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দিয়েছেন। মানববন্ধনে বক্তারা ভুক্তভোগী খোরশেদ আলমের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া আমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম ডিস লাইনের ব্যবসা করেন। প্রায় এক মাস আগে তাঁর ঘর থেকে একটি ব্যাটারি চুরি যায়। ওই ব্যাটারি খোরশেদ আলমের ছেলে সানোয়ার হোসেন ওরফে ইফাদ (১৭) চুরি করেছে বলে আমিনুল ইসলাম সন্দেহ করে আসছিলেন। এরই জেরে ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫-৭ জন ব্যক্তি খোরশেদ আলমকে ধরে ভারুয়া বাজারসংলগ্ন হামিদুল্লাহ মেম্বারের দোকানে নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেন খোরশেদ আলম। পরে ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহ তাঁর হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাঁকে উদ্ধার করে।

অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, খোরশেদ আলমকে আমরা ধরে নিয়ে আসিনি। তাঁকে ডেকে নিয়ে এসেছিলাম। তাঁকে কোনো মারধর করা হয়নি। ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহ বলেন, খোরশেদ আলমের হাতের বাঁধন আমি খুলে দিয়েছি।

মামলায় অভিযুক্ত অপর দুজন হলেন মানিককুড়া গ্রামের ভুষু মিয়া ও আমিনুল ইসলাম। বিএনপি নেতা আজহারুল ইসলাম (সুজা) ও ছাত্রদল নেতা শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।


আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত