মাটির নিচে মিলল নিখোঁজ রাকিবুলের গলিত মরদেহ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-06 15:12:48 · মেইল ডেস্ক
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদীর আটা গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল হোসেন জয় (১৮)-এর গলিত মরদেহ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার একটি তদন্তকারী দলের সহায়তায় একটি বাড়ির মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিবুল হোসেন জয় দাদীর আটা গ্রামের কৃষক খাদেমুল ইসলামের ছেলে।
তিনি ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন জয়। নিখোঁজের পর অপরিচিত এক যুবক জয়ের মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে চোখ-মুখ বাঁধা ও নির্যাতনের ছবি পাঠায়।
এ সময় ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে জয়কে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দরিদ্র কৃষক বাবা খাদেমুল ইসলাম ধারদেনা ও সুদে টাকা নিয়ে বিভিন্ন ১৩টি বিকাশ নম্বরে মোট পাঁচ লাখ টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর ওই নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর জয়ের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তে প্রায় এক মাস আগে জয় ও মামুন রহমানের পরিচয়ের বিষয়টি উঠে আসে। পরে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে জয়কে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশে মামুন জয়কে তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে নিয়ে যান। সেখানে একটি বাড়ির মাটির নিচে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন।
পরে ঢাকায় গিয়ে জয়ের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুন রহমান (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে জয়কে মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারে তদন্তকারী দল। পরে মঙ্গলবার সেখানে অভিযান চালিয়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ডিমলা থানার ওসি আশরাফুল আলম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। গ্রেপ্তার মামুনকে ঢাকার তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জয়ের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, মুক্তিপণ দিয়েছিলাম ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায়। টাকা দিয়েও ছেলেকে জীবিত পেলাম না। আমি খুনির ফাঁসি চাই। জয়ের মা জোহুরা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত ফাঁসি চাই। আমি এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। জয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে গোপালপুরের দাদীর আটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।