রাতের আঁধারে কৃষকের ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-26 07:37:02 · তৌহিদুর রহমান
শেরপুরের শ্রীবরদীতে এক কৃষকের প্রায় ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রিংকু মিয়ার দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিবেশী সোলাইমান মোল্লা ও তার লোকজন রাতের আঁধারে বাগানের গাছগুলো কেটে দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোলাইমান মোল্লা।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের বিলভরট গ্রামের কৃষক রিংকু মিয়া। অসুস্থ শরীর নিয়েও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছিলেন কলার বাগান। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে বাগান তৈরিতে তিনি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছেন বলে জানান।
রিংকু মিয়ার ভাষ্য, সম্প্রতি বাগানের কলাগাছে ফলন আসতে শুরু করেছিল। কলা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি ও তার স্ত্রী।
কিন্তু মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাগানের প্রায় ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলে বলে অভিযোগ করেন রিংকু মিয়া।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিবেশী মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে সোলাইমান মোল্লা ও তার লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রিংকু মিয়া বলেন, অসুস্থ অবস্থায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অনেক কষ্ট করে তিনি বাগানটি করেছিলেন। ঋণ করে বিনিয়োগ করা সেই বাগানের সব গাছ কেটে দেওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের একজনের ভাষ্য, রিংকু মিয়া ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে বাগানটি পরিচর্যা করছিলেন। গাছে ফলনও আসতে শুরু করেছিল। এ অবস্থায় গাছগুলো কেটে ফেলার ঘটনায় কৃষক পরিবারটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে রিংকু মিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোলাইমান মোল্লা। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। কলাগাছ কাটার ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রিংকু মিয়ার দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কলাগাছ কাটার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং তার ক্ষতির যথাযথ প্রতিকার করা হোক।