সংকট কাটাতে জামালপুরে ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার দাবি
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-19 15:38:15 · স্টাফ রিপোর্টার
দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো জামালপুর শহরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনসংখ্যা ও নগরায়ণের চাপ। কিন্তু সে অনুযায়ী নাগরিক সেবা না বাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। পানি সংকট, বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা ও যানজটের মতো সমস্যা সমাধানে ২০২৬ থেকে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি ওঠে।
‘জামালপুর নাগরিক কল্যাণ পরিষদ’ আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভার মূল বিষয় ছিল পৌরসভার নাগরিকদের মৌলিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন ভাবনা। সভায় জানানো হয়, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শহর ১৯৯৩ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। বর্তমানে ৫৩ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই এলাকায় প্রায় এক লাখ ৫৯ হাজার মানুষের বসবাস। জনসংখ্যা বাড়লেও নাগরিক সুবিধার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখানে হয়নি।
পৌরসভার নানা সংকটের চিত্র তুলে ধরে সভায় বলা হয়, শহরের মাত্র ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৩ হাজার ২৯৭টি পরিবার পাইপলাইনের পানির আওতায় রয়েছে। দিনে গড়ে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছেন। এছাড়া পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার এবং নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে।
গত এক দশকে মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো বড় স্থাপনা গড়ে ওঠায় শহরের পরিধি ও মানুষের চাপ দ্রুত বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪০ সালের মধ্যে এই শহরের জনসংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তাই চার দশক আগের পুরোনো পরিকল্পনা দিয়ে ভবিষ্যতের এই নগরায়ণ সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সংকট উত্তরণে সভায় যানজট কমাতে রিং রোড ও সবুজ বলয় তৈরি, নদের পাড়ে আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন এবং জিআইএসভিত্তিক ডিজিটাল পৌরসেবা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় নিয়ে এখনই দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। পাশাপাশি এটি বাস্তবায়নে আইনি কাঠামো ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
আইনজীবী মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বিচ্ছিন্ন উন্নয়নের বদলে বাসযোগ্য শহর গড়তে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেন। সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ রুহানি বলেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।