গোয়ালঘরের বর্জ্য ঢোকে শ্রেণিকক্ষে, ৭ বছরেও বন্ধ হয়নি দুর্ভোগ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-18 13:22:19 · মেইল ডেস্ক
তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যে নাক চেপে শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ নিতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। কোথাও মেঝেতে জমে আছে নোংরা পানি, জানালার পাশে পড়ে রয়েছে গোবরের স্তূপ। বিদ্যালয় ভবনের দেয়াল ঘেঁষে থাকা গোয়ালঘর থেকে গড়িয়ে আসা গোবরমিশ্রিত পানি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের।
প্রায় সাত বছর ধরে এমন পরিবেশেই চলছে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান।
বিদ্যালয় ভবনের পাশের গোয়ালঘরটি নাংলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গোয়ালঘর পরিষ্কার ও বৃষ্টির পানি গোবরসহ অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে মিশে বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষের দিকে চলে আসে। বিষয়টি নিয়ে তাকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
১৯৬৩ সালে ৫৪ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে এটি সরকারি হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২০৩ শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক রয়েছেন। দুটি ভবনের ছয়টি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলে।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো ভবনের পশ্চিম পাশে দেয়াল ঘেঁষে গোয়ালঘর। ওই ভবনের একটি কক্ষেই দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান হয়। ভবনের পাশেই পড়ে আছে খড়, গোবর ও গরুর বর্জ্য। কোথাও কোথাও জমে আছে নোংরা পানি। এসব বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গোয়ালঘরটি শ্রেণিকক্ষের তুলনায় কিছুটা উঁচু। ফলে সেখান থেকে গড়িয়ে আসা পানি বিদ্যালয় ভবনের দিকে চলে আসে। গোয়ালঘর পরিষ্কার করার পানি ও বৃষ্টির পানির সঙ্গে গোবর ও অন্যান্য বর্জ্য মিশে পরে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও ঢুকে পড়ে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, গরমের সময় দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়। দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা তখন কষ্টকর হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। গোয়ালঘরের পানি ছাড়াও আশপাশের বাড়ির শৌচাগারের নোংরা পানি বিদ্যালয়ের মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়ে বলে তাদের অভিযোগ।
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় নাক চেপে ক্লাস করতে হয়। মেঝেতে পানি জমে থাকলে বেঞ্চে বসেও স্বস্তি পাওয়া যায় না।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোয়ালঘর নিয়ে সমস্যাটি প্রায় সাত বছরের পুরোনো। গোয়ালঘরটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য জাহাঙ্গীর আলমকে একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন্নাহার বলেন, ‘নোংরা পানি ও দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছেও আমাদের জবাবদিহি করতে হয়।’
প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, ‘গোয়ালঘরটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য জাহাঙ্গীর আলমকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি।’
মেলান্দহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’