অনুমোদনের পরও নেই টেন্ডার, সেতুর অপেক্ষায় চার উপজেলার মানুষ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-19 05:10:36 · স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুরের ঝিনাই নদীর ওপর ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি সেতু’ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হলেও এখনো টেন্ডার আহ্বান হয়নি। এতে সেতু নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। দ্রুত টেন্ডার আহ্বান ও নির্মাণকাজ শুরুর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া এলাকায় ঝিনাই নদীর পাড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চার উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয়রা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঝিনাই নদীর পাড়ে গিয়ে শেষ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝিনাই নদীর ওপর সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চার উপজেলার মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পারাপারে তাদের নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও বয়স্কদের নদী পারাপারে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সেতু না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও পরিবহন খরচ গুনতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয়দের মতে, চার উপজেলার মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় সেতু নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) মেলান্দহ উপজেলার চর ঘোষেরপাড়া-দক্ষিণ ঘোষেরপাড়া ভায়া দাখিল মাদ্রাসা সড়কে ঝিনাই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনের পর তারা সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করেছিলেন। তবে অনুমোদনের পরও এখনো টেন্ডার আহ্বান না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার আলী বলেন, ‘নদীর কারণে আমাদের চলাচলে অনেক সমস্যা হয়। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা হলে চার উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে।’
সুলাইমান ইসলাম বলেন, ‘এই সেতুর দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় আমরা মনে করেছিলাম দ্রুত কাজ শুরু হবে। কিন্তু এখনো টেন্ডার না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা মীর ইসহাক হাসান ইখলাস বলেন, ‘ঝিনাই নদীর ওপর সেতু না থাকায় চার উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে আসছেন। প্রকল্প অনুমোদনের পর আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। এখন দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।’