নেত্রকোনায় হাওরের বাঁধ কেটে ৫৫ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-18 09:16:33 · স্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জালিয়া হাওরের বেড়িবাঁধ কেটে পানি বের করে দেওয়ায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি এবং মাছ লুটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে কেন্দুয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের পূর্ব সীমান্তের জালিয়া হাওরের কালারিয়া এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলী আহম্মদ খান পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার নোয়াগাও গ্রামের মামুদ আলীর ছেলে ছদ্দু মিয়াকে (৫৭) প্রধান আসামি করে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
ভুক্তভোগী আলী আহম্মদ খানের অভিযোগ, মাহমুদপুর গ্রামের জালিয়া হাওরের কালারিয়া অংশের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে তার স্বত্ব দখলীয় নিচু জমিতে প্রতিবছর বোরো মৌসুমে ধান এবং বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। অসময়ে বন্যার পানি থেকে ফসল ও মাছ রক্ষার জন্য ওই এলাকায় একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে অভিযুক্তরা ১৫ থেকে ২০টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হাওরে প্রবেশ করেন। পরে তারা কোদাল দিয়ে বেড়িবাঁধ ও বরনী নদীর পাড় কেটে দেন। এতে হাওরে জমে থাকা পানি বরনী নদীতে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
পানির স্রোতে রুই, কাতল, মৃগেল, গাসকার্প, সরপুঁটি, বোয়াল, শোল, শিং, কই, মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির চাষ করা মাছ ভেসে যায়। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া অভিযুক্তরা চায়না জাল ও জিম জাল দিয়ে আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, খবর পেয়ে আলী আহম্মদ খান ও স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় তাদের প্রাণনাশ ও খুন করে গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’