ময়মনসিংহ মেইল

টাঙ্গাইলের মাটিতে ৩২ বছরের ঐতিহ্য বিলপাড়ার চমচম

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-07 13:03:49 · স্টাফ রিপোর্টার

টাঙ্গাইলের শাড়ি আর চমচম নিয়ে দেশজুড়ে সুনামের বিষয়টি সকলের জানা।মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রসঙ্গ উঠলে টাঙ্গাইলের চমচমকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেয়া হয়।আধুনিকতার এই যুগে হরেক নাম,রঙের বিজ্ঞাপন আর চোখ ধাঁধানো আলো ঝলমল বিপনীতে সাজিয়ে রাখা মিষ্টি তথা চমচমের ভীড়ে ৩২বছর ধরে স্বকৃীয়তা ধরে রেখেছে টাঙ্গাইলের বাসাইলের বিলপাড়ার সাদা চমচম।টাঙ্গাইল জেলাশহর থেকে ১৯ কি.মি. দক্ষিনে এবং দেশের অন্যতম মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রায় ৪ কি.মি. উত্তর দিকে লৌহজং নদীর তীর ঘেষে বিলপাড়া বাজার গড়ে উঠেছে। বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের এই বাজারে ১৯৯৪ সালের মাঝামাঝি সামান্য পুঁজি নিয়ে একটি খুঁপড়ি দোকানে মিষ্টি তৌরীর কাজ শুরু করেন মিষ্টির জাদুকর নেওয়াজ আলীর বড় ছেলে সুজন মিয়া। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় তেমন সুবিধা করতে না পেরে ১৯৯৬ সালের দিকে প্রবাসে পাড়ি জমান সুজন।এসময় ব্যবসা বাদ না দিয়ে হাল ধরেন তার বাবা নেওয়াজ আলী মিয়া। ব্যাতিক্রম ভাবনা থেকে শুধু খাঁটি ছানা দিয়ে সাদা চমচম তৌরী শুরু করেন তিনি। এতেই ভাগ্যের চাকা ঘুড়ে যায় নেওয়াজ আলীর, চমচমের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। গ্রামীন অবকাঠামোড় কাঁচা আর ভাঙ্গা রাস্তা পেড়িয়ে দূরদূরান্ত থেকে এই চমচমের স্বাদ নিতে মানুষ আসতে থাকে।আশপাশের জেলা ডিঙ্গিয়ে উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে বিলপাড়ার মিষ্টির সুনাম।সরজমিনে বিলপাড়ার নেওয়াজ মিষ্টি ভান্ডারে গিয়ে কথা হয় ৭৪ বছর বয়সী নেওয়াজ আলী মিয়ার সাথে। তিনি জানান,গরুর খাঁটি দুধের  ছানা কাটা হয়,নিজে সবকিছু দেখে সামান্য পরিমান ময়দা ছিটিয়ে দেন ।কারীগররা চমচমের রূপদেন ওই ছানা দিয়ে।একটি কড়াইতে চিনিকে সুরা করা হয়,পরে ওই সুরায় চমচমগুলোকে জ¦ালদিয়ে খাওয়ার জন্য উপযুক্ত করা হয়।তিনি জানান,ময়দা,চিনি,সুরার পরিমান,আগুনের ঝাঁচ সবই তিনি নিজে এবং তার ছেলে সুজন তদারকি করেন।সামান্য হেরফের হলে স্বাদ ও রং পরিবর্তন হয়ে যায়।বয়সের বার্ধক্য নেওয়াজ আলীর গতিকে কিছুটা কমিয়ে দিলেও সম্প্রতি হাল ধরেছেন তার ছেলে সুজন মিয়া।তিনি জানান,২০০৬ সালে প্রবাস থেকে ছুটিতে এসে আর যাইনি।বাবার সাথেই কাজ করা শুরু করি।বাবার হাতে জাদু আয়ত্ব করতে অনেক সময় লেগেছে।বাবার বয়স হয়েছে,সেই থেকে লেগে আছি। সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভাল আছি।তবে আমাদের দোকানে শাখা আছে বলে প্রচার করে এবং নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ সাধারণ ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করছে।আসলে আমাদের কোথাও কোন শাখা দোকান নেই।স্থানীয়রা জানান, এক নেওয়াজ আলীর দোকানটিতে সবসময় ক্রেতার আসাযাওয়া থাকে।প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে এখানে মিষ্টি খেতে আসে।পরিচ্ছন্নতা এবং তাদের ব্যবহারে প্রায় সকল ক্রেতাই মুগ্ধ।ঘাটাইল থেকে আসা লোকমান হোসেন বলেন“নতুন বিয়ে করেছি।শশুড় বাড়ির লোকজনদের মুখে এই দোকানের নাম শুনে আমি অবাক হয়েছে।বাইরের জেলায়ও নেওয়াজের চমচমের কথা জানে।তাই তাদের জন্য কিনতে এসেছি।”

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত