আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন পেলেন শেরপুরের জয়া বণিক
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-02 03:28:28 · স্টাফ রিপোর্টার
শিশু অধিকার ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজের স্বীকৃতি, বিশ্বের ২৯৮ মনোনীতের তালিকায় বাংলাদেশের ৪২ জনশিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন শেরপুরের তরুণী শিশু সাংবাদিক ও শিশু অধিকারকর্মী জয়া বণিক। শিশু সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিক্ষার প্রসারে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখায় তিনি এ মনোনয়ন পেয়েছেন।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের আয়োজক নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংস্থা কিডস রাইটসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৬ সালের মনোনীতদের তালিকায় জয়া বণিকের নাম উঠে আসে।এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৯৮ জনকে এ পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ৪২ জন। এ তালিকায় শিশু সাংবাদিকতায় বিশ্বের প্রথম বাংলা সাইট হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাত শিশু সাংবাদিকও রয়েছেন। তাঁরা হলেন কাশফিয়া জান্নাত কুহু, অরণ্য আবীর খান প্রাপ্য, ফারাবি জাবিন সায়েরী, জয়া বণিক, সুদীপ্ত দেবনাথ, মুশফিকুর রহমান ও জামিউল হাসান আরাফ।কিডস রাইটসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জয়া শিশুদের অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কমিউনিটিতে প্রচারাভিযান চালান। কর্মশালা ও সহপাঠীদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের নিজেদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করেন তিনি।বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও কাজ করছেন জয়া। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় শিশু অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জয়া বণিক বলেন, “আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য মনোনীত হওয়ায় আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির স্বীকৃতি আমাকে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়তে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে।”তিনি আরও বলেন, “এই স্বীকৃতি সেই সব শিশুর, যারা নিরাপত্তা, শিক্ষা, মর্যাদা এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে। এই পথচলায় যাঁরা আমাকে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।”২০০৫ সালে ইতালির রোমে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার চালু হয়। প্রতিবছর শিশুদের অধিকার ও কল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা একজন তরুণকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের সুযোগ থাকায় এটি ‘শিশুদের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত।আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৯ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে পিস প্যালেসে ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।