ময়মনসিংহ মেইল

১০ কোটি টাকার ব্রিজে উঠতে বাঁশের সাঁকো, মির্জাপুরে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-30 14:16:14 · স্টাফ রিপোর্টার

 টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক সেতু চালু না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় সেতুটিতে উঠতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে। এতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সেতুটি। এটি চালু হলে মির্জাপুরের সঙ্গে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও ধামরাইয়ের যোগাযোগ সহজ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো রেলিং নির্মাণসহ কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

সেতুর মূল কাঠামোর কাজ শেষ হওয়ার পর ভূমি জটিলতার কারণে আটকে যায় সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ। পরে ২০২৫ সালের জুনে দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ শুরু হলেও গত ১৫ মাসে অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর উত্তর পাশে অল্প কিছু মাটি ফেলে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। খাড়া ও আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ সেতুতে উঠছেন। আর দক্ষিণ পাশে কাঁচা রাস্তা থেকে সেতু পর্যন্ত একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ নড়বড়ে ওই সাঁকো ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নিয়মিত কাজ করছে না। একদিন কাজ করার পর কয়েকদিন কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে।

কামারপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সেতু ও সংযোগ সড়কের বাকি কাজ শেষ করে এটি মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সময় লেগেছে। পাশাপাশি বর্ষার কারণেও কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান জানান, জমি নিয়ে জটিলতা ও মামলা হয়েছিল। পরে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। এখন আর সমস্যা নেই, তাই দ্রুত কাজের গতি বাড়ানো প্রয়োজন।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন জানান, বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, কাজে গাফিলতি বা জনভোগান্তি বরদাশত করা হবে না। আইনি জটিলতা নিরসন হয়েছে এবং ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত