ময়মনসিংহ মেইল

বারহাট্টায় সেতু নির্মাণে চরম দুর্নীতি: এলাকাবাসীর ক্ষোভে কাজ বন্ধ

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-05 04:41:39 · স্টাফ রিপোর্টার

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অবশেষে গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের মুখে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।​উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই প্রকল্পের মাধ্যমে আসমা ইউনিয়নের গোড়ল কাউনাই নদীর ওপর ৭.৯৩ মিটারের একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘মেসার্স আবির ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কার্যাদেশ পায়, সরকারি খাতায় যার স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল ভূঁইয়া।​স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির ভিত্তিমূল থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপেই নিম্নমানের সুরকি, জমাট বাঁধা সিমেন্ট, কাদামিশ্রিত পাথর, ময়লাযুক্ত বালু এবং মরিচাধরা রড ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগেও (প্রায় ছয় মাস) ঢালাইয়ের প্রস্তুতির সময় সেন্টারিং রডসহ পুরো কাঠামোটি ভেঙে পড়েছিল। তাছাড়া কাজ অসমাপ্ত ও ধীরগতির হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই আগাম বিল তুলে নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।​ধারাবাহিক অনিয়মের পর গত কাল রবিবার (৪ অক্টোবর) পুনরায় কাদাযুক্ত পাথর ও জমাট বাঁধা সিমেন্ট দিয়ে সেতুর ঢালাই কাজ শুরু করলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে আসরের নামাজের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়েদ উল্লাহ। সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা মিললে কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেতুর সব ধরনের ঢালাই বন্ধের নির্দেশ দেন।​গোড়ল গ্রামের বাসিন্দা সুহেল মিয়া ও প্রত্যক্ষদর্শী আনিস তালুকদার জানান, স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে উপাদান ও মরিচাধরা রডের ওপর ঢালাই চাপানো হচ্ছিল। নিয়মিত কোনো সরকারি তদারকি না থাকায় এমন অনিয়ম সম্ভব হয়েছে। এছাড়া পরিদর্শনকালে এক আনসার সদস্য স্থানীয়দের ভিডিও ধারণে বাধা দিলে জনমনে অসন্তোষ আরও বাড়ে।​নথিভুক্ত ঠিকাদার মো. রুবেল ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লাইসেন্স তাঁর হলেও কাজ তদারকি করছেন তাঁর বড় ভাই আবুল। তবে সরকারি নথি অনুযায়ী আইনি দায়বদ্ধতা তাঁর ওপরই বর্তায়—এ কথা স্বীকার করে তিনি বিষয়টি ভাইয়ের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।​প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়েদ উল্লাহ বলেন, “অনিয়ম পাওয়ার পরপরই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত শোকজ করা হবে।” ইউএনও সেলিনা আক্তার জানান, অনিয়মের ভিত্তিতে কাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।​এদিকে কাজ বন্ধ হলেও স্থানীয়দের আতঙ্ক কাটেনি। তাঁদের দাবি, সেতুর অধিকাংশ কাজই ইতোমধ্যে নিম্নমানের উপকরণে শেষ করা হয়েছে। ফলে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ঢালাইয়ের অংশগুলো পরীক্ষা করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা না করলে যাতায়াতের সেতুটি শেষ পর্যন্ত ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত