সময় শেষ হলেও হয়নি সড়কের কাজ, দেড় কিমিজুড়ে দুর্ভোগ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-21 15:21:09 · স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহের ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার মানুষ। সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশাল সদর থেকে ফুলবাড়িয়ায় যাতায়াতের ত্রিশাল-ধুরধুরিয়া সড়কটি দীর্ঘদিন খানাখন্দে ভরা ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় দুই কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে তিন কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য ‘মেসার্স সাইফুল ইসলাম’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৩০ জুনের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল এলজিইডি।
কিন্তু মে মাসের মধ্যে মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করে বাকি দেড় কিলোমিটার ফেলে রাখেন ঠিকাদার। জ্বালানি সংকট, বিটুমিন না পাওয়া এবং বর্ষার অজুহাতে গত সাড়ে তিন মাস ধরে সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। আর চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি বড় কোনো যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকায় মালপত্র পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিনই সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন গর্তে পড়ে উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কটির বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছলিমপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাল্টিমিডিয়া স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোমাইয়া সাদমিন বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন আসা-যাওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। প্রায়ই গর্তে পড়ে যানবাহন কাত হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’
খানাখন্দে ভরা এ সড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে জানিয়ে ছলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা এখলাছুর রহমান বলেন, সড়কটির সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে স্থানীয়দের কষ্ট আরও বাড়বে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ইবনুল হাসান বলেন, সবটুকু সড়ক মোটামুটি ভালো থাকলেও এই দেড় কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এই রাস্তায় যানবাহন নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি ঠেলে পার করতে হয়।
এসময় দ্রুত সড়কটির মেরামতকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
কাজ ফেলে রাখার বিষয়ে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, গত জুন মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও জ্বালানি সংকট ও বিটুমিন না পাওয়ায় সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। জ্বালানি ব্যবস্থা হতে বর্ষা মৌসুম চলে আসে। এছাড়া শুরুতে কিছু বিল পেলেও পরে ৫০ লাখ টাকার জন্য আবেদন করেছিলাম। সেই টাকাও পাইনি। সব ধরনের সংকট থাকায় কাজটি শেষ করা যায়নি।
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, ‘বর্ষাকালে কার্পেটিং করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। ঠিকাদারকে তাই কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। বর্ষা শেষ হওয়ায় দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই কাজ শুরু হবে।’