ময়মনসিংহ মেইল

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই; বিধবা জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-08 14:40:32 · স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেয়ার কথা বলে এক বিধবার কাছ থেকে টিপসই নেয়ার পর, সেটি ব্যবহার করে বিয়ের কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে আবদুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় ওই বিধবার সঙ্গে আবদুল কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তির বিয়ে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিয়েতে সম্মতি দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন ওই নারী। একই সঙ্গে কাবিননামাটিকে জাল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কাজিও।

ভুক্তভোগী ওই নারীর বয়স ৪৩ বছর। তার অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেয়ার পাশাপাশি একটি কাগজে তার টিপসই নেয়া হয়। কয়েক দিন পর এলাকায় তার সঙ্গে আবদুল কুদ্দুসের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই বিয়ের একটি কাবিননামার কপিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

ওই নারী বলেন, ‘আমি কোনো বিয়েতে সম্মতি দিইনি। ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে আবদুস সাত্তার আমার কাছ থেকে কাগজে টিপসই নিয়েছেন। সেই টিপসই জালিয়াতি করে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর স্বামী প্রায় ১৩ বছর আগে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর মানুষের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন এবং তাদের বিয়েও দিয়েছেন। তার নাতি-নাতনিও রয়েছে।

অভিযোগ ওঠা আবদুস সাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। স্থানীয় পাটুলি বাজারে তার একটি কসমেটিকের দোকান রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে কোনো টিপসই নিইনি। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নেয়া হয়েছে। আবদুস সাত্তার জামায়াতের কোনো পদধারী নেতা নন। গত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি বিএনপি করতেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সাজানো হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।’

এদিকে, ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে আবদুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কুদ্দুস এর আগে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ওই নারী কখনো এতে রাজি হননি বলে দাবি করেছেন।

আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার স্ত্রী সুফিয়া জানান, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী আগে কখনো কিছু জানাননি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ হয়েছে বলে দাবি করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিষয়টি নিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি কারও কথা শুনছেন না।

ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় কাজি হিসেবে গোলাম মোস্তফার নাম রয়েছে। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে। তবে সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ওই বিয়ের কোনো সাক্ষী ছিলেন না।

কাজি গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি ওই বিয়ে সম্পন্ন করেননি। ছড়িয়ে পড়া কাবিননামাটিকে সম্পূর্ণ জাল দাবি করে তিনি জানান, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে গত সোমবার ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিস হয়েছে। তবে কোনো সালিসেই আবদুস সাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত তাদের সময় দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালিসের নেতা রুস্তম আলী।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে কী হয়েছে, আমরা যাচাই করছি। সালিসে সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত