ময়মনসিংহ মেইল

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নুরুজ্জামান খান

ক্যাম্পাস মেইল · 2026-10-08 12:04:15 · স্টাফ রিপোর্টার

‎‎জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খান ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সাল থেকে টানা চার বছর বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেলেন তিনি। জাককানইবি থেকে এ বছর তিনিই একমাত্র গবেষক হিসেবে এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
‎‎আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা Elsevier-এর প্রকাশিত এই তালিকা গবেষকদের গবেষণার প্রভাব ও citation-based research impact পরিমাপের একটি আন্তর্জাতিক সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তালিকাটি Scopus ভিত্তিক গবেষণা তথ্য থেকে তৈরি করা হয়। এতে citation, h-index, co-authorship-adjusted hm-index এবং গবেষণাপত্রে লেখক হিসেবে গবেষকের অবস্থানসহ একাধিক সূচকের সমন্বিত মূল্যায়ন করা হয়। গবেষকদের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র ও উপক্ষেত্র অনুযায়ী পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
‎‎২০২৬ সালের তালিকায় ড. নুরুজ্জামান খানকে Clinical Medicine এর Public Health উপক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকার তথ্য অনুযায়ী, Public Health উপক্ষেত্রে তাঁর বৈশ্বিক অবস্থান ৪২৬তম এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক অবস্থান ৪৬,০১৭তম। একই প্রোফাইলে তাঁর H-index ২৬ এবং Hm-index ৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
‎‎চলতি বছরের তালিকায় বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৪৭ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ড. নুরুজ্জামান খানের অবস্থান ৪৪তম। ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ টানা চার বছর তিনি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
‎ড. নুরুজ্জামান খানের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে Refugee and Migrant Health, Disability, Maternal and Child Health। এসব ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়ে আসছে।
‎একাডেমিক জীবনে ড. নুরুজ্জামান খান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার University of Newcastle থেকে Clinical Epidemiology and Medical Statistics বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
‎‎বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা চার বছর স্থান পাওয়ার বিষয়ে ড. নুরুজ্জামান খান বলেন, “গবেষণার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জনস্বাস্থ্য ও মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করাই আমার গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য। এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও অর্থবহ গবেষণায় কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।”
‎‎তরুণ গবেষকদের বিষয়ে ড. নুরুজ্জামান খান বলেন, “তরুণদের জন্য কিছু করতে পারলে সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়। আমার গবেষণার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান যদি তরুণ গবেষকদের এগিয়ে যেতে কাজে লাগে, তাহলে সেটাকেই আমি আমার কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে মনে করি।”
‎জাককানইবির একজন গবেষক হিসেবে টানা চার বছর বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও দৃশ্যমানতার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎উল্লেখ্য, এলসেভিয়ার (Elsevier) প্রতিবছর বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় দুই হাজারের বেশি জার্নাল প্রকাশ করে থাকে। এর প্রকাশিত নিবন্ধের সংখ্যা দুই লাখ ৫০ হাজারের বেশি এবং আর্কাইভে সংরক্ষিত প্রকাশনার সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে। এটি মূলত চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সামাজিক বিজ্ঞানের ওপর গবেষণাপত্র, বই এবং জার্নাল প্রকাশ করে থাকে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত