ময়মনসিংহ মেইল

জামালপুর / চরে কৃষকদের আগাম সবজি চাষ, সার নিয়ে দুশ্চিন্তা

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-12 09:58:20 · স্টাফ রিপোর্টার

চরাঞ্চলের উর্বর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামালপুরের কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে জমি তৈরি, বীজ বপন ও পরিচর্যার কাজ। টমেটো, বেগুন, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, ধুন্দুল, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ নানা ধরনের সবজির আবাদ করছেন তারা। তবে চাষের এই ব্যস্ততার মধ্যেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে সারসংকট। তাদের অভিযোগ, চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে আবাদ। যদিও জেলায় সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি কৃষি বিভাগের।

জামালপুর সদরসহ দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে এখন শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে। কোথাও জমি তৈরি করছেন কৃষকরা, কোথাও লাগানো হচ্ছে চারা। আবার কোথাও বীজতলায় বেড়ে ওঠা চারার পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলন পেতে জমির পরিচর্যায় বাড়তি সময় দিচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, আগাম সবজি চাষে জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বীজ বপন, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ—প্রতিটি পর্যায়েই বাড়তি যত্ন নিতে হয়। এর পাশাপাশি রয়েছে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা। অতিবৃষ্টিতে জমিতে পানি জমলে চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার অতিরিক্ত গরমেও কিছু সবজির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে তাদের।

ইসলামপুরের কৃষক রহিম এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছেন। জমিতে সার প্রয়োগের পাশাপাশি আগাছা পরিষ্কার করছেন তিনি। রহিমের অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। যতটুকু সার দরকার, ততটুকু না পেলে গাছের ঠিকমতো পরিচর্যা করা কঠিন হয়ে পড়ে। আগাম সবজি চাষে এমনিতেই পরিশ্রম বেশি। তার ওপর সার নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে উৎপাদন ভালো হবে কি না, তা নিয়েও চিন্তা করতে হয়।

আরেক কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, আগাম সবজি চাষ করতে হলে জমিতে বেশি সময় দিতে হয়। সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচও বেশি পড়ে। তবে শীতের শুরুতে বাজারে সবজির দাম ভালো পাওয়া যায়। তাই একটু বেশি পরিশ্রম হলেও আগাম সবজি চাষ করছি। এখন প্রতিদিনই জমিতে আসতে হচ্ছে। কোনো দিন সার দিতে হয়, কোনো দিন আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। আবার গাছে রোগবালাই দেখা দিয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জামালপুর জেলায় ১৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এক হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। কৃষকরা মাঠে সবজি আবাদ ও বীজতলায় চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ আছে এবং রবি মৌসুমের জন্যও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমরা সেই পরিমাণ সার পাব এবং কৃষকদের মধ্যে সুন্দরভাবে বিতরণ করব। কৃষকরা নিজ নিজ এলাকার সার ডিলারের পয়েন্টে গিয়ে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সার সংগ্রহ করতে পারবেন। আমরা কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আছি।’

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত