‘৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় সংবাদ প্রকাশ’— বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে হালুয়াঘাটে সংবাদ সম্মেলন
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-09 14:13:19 · স্টাফ রিপোর্টার
সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে ওমর ফারুক সুমন নামে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন হাবিবুল্লাহর ছেলে। তিনি বাবার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করেন, নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আনন্দ টিভির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ওমর ফারুক সুমন সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
হাবিবুল্লাহর ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে আনন্দ টিভিতে তাঁর বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রচার করা হয়। ওই সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, এতে যাঁদের বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, তাঁদের কয়েকজন সুমনের সহযোগী। সংবাদে দেখানো কিছু ভিডিওর উৎস ও উপস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ভিডিওগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মানুষের কাছে তাঁকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায়।
নিজের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিয়ে হাবিবুল্লাহ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষকে ধর্মীয় সহায়তা দিয়ে আসছেন। দোয়া, কোরআনের আয়াত পাঠ ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সহযোগিতা করেন। এ জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিক দাবি করেন না; কেউ স্বেচ্ছায় হাদিয়া দিলে তা গ্রহণ করেন বলে দাবি তাঁর।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত সাংবাদিকের সহযোগী আলমগীর ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কয়েক দিন আগে ওই ব্যক্তি হাবিবুল্লাহর কাছে চাঁদা দাবি করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে সাংবাদিকদের খবর দিলে তিনি উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চেয়ে চলে যান বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলের ফার্মেসি মালিকদের কাছে অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
হাবিবুল্লাহর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে সংবাদ প্রচার ও লোকজন দিয়ে মানববন্ধন করানোর মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা বিভাগ, গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক সমাজের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।