বছরের পর বছর ঝুলছে নেত্রকোণার বাইপাস, ভোগান্তিতে চালক-স্থানীয়রা
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-09 08:21:16 · স্টাফ রিপোর্টার
দুই দফা মেয়াদ বাড়লেও নেত্রকোণায় শেষ হয়নি বহুল কাঙ্ক্ষিত বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ। সড়কের কিছু অংশে এখনো ফেলা হয়নি মাটি। ফলে কবে নাগাদ সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হবে। তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। যানবাহন চালকদের দাবি, বছর বছর ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত শেষ করা হোক সড়কের নির্মাণকাজ। যদিও স্থানীয় সংসদ সদস্য সংকট কাটিয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।
যানজটে নাকাল পুরো শহর। শহরের পুরোটাই ব্যাটারিচালিত অটো রিকশার দখলে। এছাড়া যত্রতত্র পার্কিং আর ফুটপাত দখল তো রয়েছেই। এই সংকট নিরসনে একটি বাইপাসের কাজ শুরু হলেও তা শেষ হচ্ছে না।
শহরের চল্লিশা থেকে শুরু হওয়া ১৩ কিলোমিটারের এই বাইপাস সড়ক নির্মাণে জটিলতা যেন কাটছেই না। কিছু কাজ শেষ হলেও অধিকাংশের কাজ ঝুলে আছে। যেখানে সেখানে পড়ে থেকেই নষ্ট হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রীসহ যন্ত্রপাতি।
২০২০ সালে শুরু হওয়া নেত্রকোণার বহুল কাঙ্ক্ষিত এই বাইপাস সড়ক দীর্ঘ সাত বছরেও এখনো শেষ হয়নি। দেখেই বোঝা যাচ্ছে সড়কের এই অংশে এখনো ফেলাই হয়নি মাটি। অথচ সড়কটির নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ কমার যেমন কথা ছিল, তেমনি হাওরপাড়ের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে তৈরির কথা ছিল নতুন নতুন বাজার।
বাইপাস সড়কে চারটি ব্রিজ ও ২২টি কালভার্ট রয়েছে। এর মধ্যেই চল্লিশা থেকে কুনিয়া পর্যন্ত পিচের ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে। বাকি অংশে মাটি ফেলে রাখলেও বৃষ্টি ও যানবাহনের চাপে জায়গায় জায়গায় তৈরি হয়েছে গর্ত। প্রতিনিয়তই যানবাহন আটকে তৈরি হচ্ছে দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘তারা ইচ্ছামতো কাজ করতেছে। আস্তে ধীরে ওই সামনে হাঁটু সমান গর্ত। গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না।’
অন্য একজন বলেন, ‘বলতাছে হইবো হইবো, কিন্তু কাজ অনেকদিন ধরে আটকে আছে। কিন্তু হইতাছে না।’
শহরের যানজট নিরসনসহ হাওরের নানা পণ্য পরিবহনে বাইপাসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভূমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি চালক ও স্থানীয়দের।
আরও পড়ুন: ৫৭ মিনিট আগে মেসেজের যুগে হারিয়ে যাচ্ছে চিঠির আবেগ—স্মৃতির পাতায় পুরোনো দিনের গল্প
চালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘শহরের দিক দিয়া ঢুকলেই না ওই যে রাস্তার যে যানজট, শহরের যানজট বাইপাস সহজ ক্লিয়ার হয় না, আমরা সুখ কোনো সুযোগ-সুবিধাও করতে পারি না।’
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘অনেক দুর্ঘটনা হইতাছে, মানুষ এক্সিডেন্ট হইতাছে, যাতায়াত করতে পারতাছে না, গাড়ি যাইতে কষ্ট হইতাছে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে নির্মাণকাজে দেরি হলেও বর্তমানে সংকট কেটে গেছে। নতুন করে আরও এক বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২৭ এর জুন পর্যন্ত করা হবে। আর স্থানীয় সংসদ সদস্য বলছেন, চলমান বাইপাসের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি দক্ষিণ পাশে আরও একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোফাকখারুল ইসলাম বলেন, ‘চল্লিশা, কুনিয়া, রাজুরবাজার বাইপাস সড়কটি চালু হলে শহরটি যানজট মুক্ত হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, খুব কম সময়ের মধ্যে বাইপাস সড়ক অতিক্রম করে উত্তরাঞ্চলের মানুষ সরাসরি তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারবে।’
নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘বাইপাসটাও এখনো পূর্ণাঙ্গ হয় নাই। কিছুটা বাকি আছে। সেটা যাতে তাড়াতাড়ি শেষ হয়। পাশাপাশি দক্ষিণ দিক দিয়া আমাদের বাকি উপজেলাগুলোর কানেকশন দেয়ার জন্য আরেকটা বাইপাসের প্রস্তাবনা এবং এটা অলরেডি প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ কিছু চলছে।’
২৯৬ কোটি টাকার চলমান এই প্রকল্পের মধ্যে ৪৩ হেক্টর জমি ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় করা হয়েছে ১০৩ কোটি টাকা। সড়ক আর ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৯৩ কোটি টাকা।