ময়মনসিংহ মেইল

মাছ ধরে জেলে, ভোগ করে ডাকাত, নির্বিকার পুলিশ

সারা দেশ · 2026-10-10 08:50:45 · স্টাফ রিপোর্টার

রাতে অরক্ষিত বরিশাল-ভোলা নৌরুটের ৫৮ কিলোমিটার এলাকায় একাধিক ডাকাতদল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জেলে ও নৌযান-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জেলে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অস্ত্রধারীরা টাকা, মাছ ও মালপত্র লুট করছে। প্রশাসন অবগত থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক সহযোগিতা মিলছে না। তবে নৌপুলিশ জানিয়েছে, ন

রাতে অরক্ষিত বরিশাল-ভোলা নৌরুটের ৫৮ কিলোমিটার এলাকায় একাধিক ডাকাতদল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জেলে ও নৌযান-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জেলে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অস্ত্রধারীরা টাকা, মাছ ও মালপত্র লুট করছে। প্রশাসন অবগত থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক সহযোগিতা মিলছে না। তবে নৌপুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তায় রাতের টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলে সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের সমুদ্রে ইলিশ ধরে বরিশাল নগরীর পোর্টরোড মোকামে ফিরছিল একটি ট্রলার। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট পেরিয়ে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুরে পৌঁছলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪০ মণ ইলিশ লুট করা হয়। তাদের অভিযোগ, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়ন সীমান্ত থেকে ভোলার ইলিশা পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি পয়েন্টে বারবার ডাকাতি হচ্ছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পণ্যবাহী ট্রলারের মাঝি শহিদুল মৃধা জানান, বরিশালের দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমানে ডাকাতি হয় না। বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের উত্তরে মেঘনায় নামলেই আতঙ্ক শুরু হয়। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর, বরিশালের হিজলা ও কোদালিয়ায় দূর থেকে পাথর ছুড়ে নৌযান নিয়ন্ত্রণ করে ট্রলার-স্পিডবোটে ঘিরে মালপত্র লুট করা হয়।

ভোলার জেলে আব্দুল মান্নান খন্দকার জানান, ভোলার ইলিশা ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার উলানিয়ায় ছোট মাছধরা ট্রলার-স্পিডবোটে অপেক্ষা করে দুর্বৃত্তরা। মাছধরা নৌযান তাদের প্রধান লক্ষ্য; নৌপুলিশ কিংবা ডাকাত পরিচয়ে তারা সর্বস্ব লুট করে। ভোলার জেলে মো. কামাল হোসেন বলেন, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর-পাতারহাটে রাতে সক্রিয় চক্র সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা চায়। না দিলে মালপত্র নেয়। কিছু না পেলে মুক্তিপণের জন্য জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার জেলে নজরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় ভোলার ইলিশা থেকে বরিশালের চরমোনাই পর্যন্ত নৌপথ ডাকাতদের নিয়ন্ত্রণে যায়। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর, মেহেন্দীগঞ্জ, পাতারহাট, উলানিয়া ও দরিরচর খাজুরিয়ায় জেলেবেশে থাকা চক্র আলো দিয়ে বড় ট্রলারকে কাছে ডাকে। আগ্নেয়াস্ত্র-ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘিরে ফেললে নিরস্ত্র জেলেরা জীবন বাঁচাতে সব দিয়ে দেন।

চট্টগ্রাম থেকে বরিশালের কেডিসি ঘাটে সার আনা তামিম-শামীম জাহাজের নাবিক সুজন আহমেদ জানান, আগে বরিশাল-ঢাকা রুটে ডাকাতি হতো। ভোলার ইলিশার পর সাদেকপুর ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর পাড়ি দিতে জোয়ার-ভাটার অপেক্ষায় নোঙর করলে ঝুঁকি থাকে। চলন্ত নৌযানও আক্রান্ত হয়। ভোলার তুলাতলি-ইলিশায় এমন তৎপরতা বেশি। জরুরি নম্বরে ফোনের পর দেরিতে সহায়তা আসে।

জীবনের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্টরা নাম বলতে ভয় পেলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দরিরচর খাজুরিয়ার নাইম, মেহেন্দীগঞ্জের মো. লিটন মাতুব্বর, বরিশালের হিজলা উপজেলার বাউশিয়ার রুহুল আমীন ওরফে কদা দেওয়ান, সহযোগী তারেক দেওয়ান, হোসেন মোল্লা, ফরহাদ মোল্লা, আলাউদ্দিন গাজী, মো. শাওন এবং বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বামনেরচরের রুবেল বেপারি ও করিমের নাম। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে।

নৌডাকাতি ও স্থানীয় গরুচোর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে সিদ্দিক দেওয়ান, আব্দুল রাজ্জাক দেওয়ান, জমসের দেওয়ান, পান্না খান, মো. রাশেদ, রহিম দেওয়ান, হারুন মোল্লা, ইদ্রিস হাওলাদার, ওয়াজেদ, মিজান মাঝি, মিল্টনসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় ডাকাতি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নৌপুলিশের বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার এসএম নাজমুল হক বরিশাল-ভোলা এবং বরিশালের হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জের নদীপথে রাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আগের মামলায় চক্রের অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলে-নৌযানের নিরাপত্তায় রাতের টহল চলছে। চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই শূন্যে নামাতে নৌপুলিশ বদ্ধপরিকর।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত