ময়মনসিংহ মেইল

কিশোরগঞ্জে ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি’ প্রশিক্ষণ শুরু

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-22 16:02:20 · স্টাফ রিপোর্টার

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পুষ্টিবিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ চলবে।

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান), কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণে এসএএও, শিক্ষক-শিক্ষিকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, তথ্য আপা, সাংবাদিক, ইমাম-পুরোহিত ও এনজিও কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার বলেন, ‘সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি রাখা প্রয়োজন। শুধু সাদা ফুলকপি নয়, বর্তমানে বাজারে সবুজ, হলুদ, কমলা ও বেগুনি রঙের ফুলকপিও পাওয়া যাচ্ছে। এসব সবজিতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কমলা ও হলুদ রঙের ফুলকপিতে বিটা-ক্যারোটিনসহ ক্যারোটিনয়েড থাকে, যা শরীরে ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। অন্যদিকে, বেগুনি ফুলকপির রঙের জন্য দায়ী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্থোসায়ানিন। তাই খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।’

প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন বারটানের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।

প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষকরা সুস্বাস্থ্যের জন্য সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন জীবনে পুষ্টির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও সমাজে পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।

এ সময় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে মশার উপদ্রব কমানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. এম. শফিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত