মৃত্যুর ২ দিন পর কবর খুঁড়ে নারীকে ‘জীবিত’ করার চেষ্টা ওঝার, এলাকায় তোলপাড়
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-16 21:23:25 · স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিষধর সাপের কামড়ে হাসনা বেগম (৫৮) নামে এক নারীর মৃত্যুর দুইদিন পর তাকে ‘জীবিত’ করার চেষ্টা করেছেন এক ওঝা। কবরের একপাশ সামান্য খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে ওই ওঝা দাবি করেন, মরদেহে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাকে জীবিত করা সম্ভব। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
হাসনা বেগম সখীপুর উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তার বাবার নাম মৃত ওয়াজেদ আলী। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিষধর সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন হাসনা বেগম। পরে স্বজনেরা তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে তার মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে হাসনা বেগমকে দাফন করা হয়।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, সাপে কাটার খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলার কৈলানপুর গ্রামের গাজী মিয়া নামে এক ওঝা সেখানে আসেন। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি। শনিবার তিনি কবরের একপাশে সামান্য মাটি খুঁড়ে সুরঙ্গের মতো করেন এবং সেখানে গন্ধ শুঁকে দেখেন।
পরে তিনি দাবি করেন, কবরের ভেতর থেকে তেলের গন্ধ পেয়েছেন। তার এমন দাবিতে উৎসুক কয়েকজন মানুষও কবরের পাশে গিয়ে গন্ধ শুঁকার চেষ্টা করেন।
ওই ওঝা হাসনা বেগমের মেয়ে খালেদা বেগমকে জানান, আগামী মঙ্গলবার তিনি আবার কবরের পাশে আসবেন। তখন কবর থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া না গেলে মরদেহ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাকে জীবিত করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে মরদেহে পচন ধরে গেলে তাকে আর জীবিত করা সম্ভব হবে না বলেও জানান ওই ওঝা।
খালেদা বেগম বলেন, ‘গতকাল আমার মনে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। মাকে আবার জীবিত পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু আধা ঘণ্টা আগে ওই ওঝা আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, রাতে ধ্যানে বসে তিনি দেখেছেন মা বেঁচে নেই। এখন আমি আশাহত।’
শনিবার (১৬ আগস্ট) কবরের পাশে ওই ওঝার ঝাড়ফুঁক ও গন্ধ শুঁকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
রোববার দুপুরে খালেদা বেগমের কাছ থেকে মুঠোফোনের নম্বর নিয়ে ওঝা গাজী মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গতকাল তিনি জীবিত ছিলেন। এখন ওই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তিনি চলে গেছেন।’ এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘এটা একটি অকল্পনীয় বিষয়। একজন মৃত ব্যক্তিকে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেছেন এবং তাকে কবরও দেওয়া হয়েছে। এরপর ওই নারী আবার বেঁচে উঠবেন- এমন দাবি হাস্যকর ও অকল্পনীয়। ওই ওঝাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাপে কাটার পর কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে কবর দেওয়ার পর ঝাড়ফুঁক করে তাকে জীবিত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে বলেও জানান তিনি।