ময়মনসিংহ মেইল

শেরপুরে দখল-দূষণে ভরাট হয়ে গেছে 'জিয়া খাল', খননের দাবি

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-28 12:39:16 · স্টাফ রিপোর্টার

শেরপুরের শ্রীবরদীতে দখল-দূষণে ভরাট হয়ে গেছে জিয়া খাল। দোকান ও বসতবাড়ি নির্মাণের ফলে শতাধিক বছরের পরোনো এই খালটি ভরাট করে ফেলেছে প্রভাবশালীমহল। বন্ধ করে ফেলা হয়েছে ব্রিজের দুই পাশ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর শহর, বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক জলাবদ্ধতা। ব্রীজের দুই পাশ মাটি ভরাটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে অচল হয়ে পড়েছে পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্রের এক মাত্র খালটি উদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, শত বছরের পুরোনো এই খালটিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল শ্রীবরদী (পুরাতন নাম শম্ভুগঞ্জ) নামে এই প্রাচীনতম বাজারটি। আর এ খাল দিয়েই তখন বিশাল বিশাল পালতোলা নৌকা নিয়ে এই অঞ্চলের উৎপাদিত পাট, ধান, মরিচসহ নানা কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেওয়া হতো। দেশের অন্যান্য স্থানে চলাচলের নৌপথ ছিলো এটি। শ্রীবরদী ডাক বাংলার পেছন থেকে শুরু হয়ে উত্তরে উজান জল কেশর রায় বিলের মধ্য দিয়ে মিরকি বিল হয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র পূর্বে শ্রীবরদী উত্তর বাজার হয়ে চালিয়াবাদী ব্রিজের নিচ দিয়ে বয়শা বিলে এবং পশ্চিমে কুকড়া বিল হয়ে দশআনী নদে মিলিত হয়েছিল খেয়াঘাট নামের এ বিশাল খাল।

তৎকালীন মহকুমা শহর জামালপুর, পার্শ্ববর্তী বকশিগঞ্জ ও বর্তমান জেলা শহর শেরপুরের সঙ্গে এ নদীপথে যোগাযোগই ছিল অত্যন্ত সহজতর। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সব দৃশ্য যেন আজ শুধুই স্মৃতি। খালের সব পথই বন্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে মার্কেট ও বসতবাড়ি। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ব্রিজের দুই পাশ মাটি ভরাট করে। ফলে খালের আওতায় কয়েক শ'হেক্টর জমির কৃষি কাজ করতে হচ্ছে সেচ যন্ত্র দিয়ে। আর সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

জানা গেছে-শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি নিজে শ্রীবরদীতে এসে এ খালটি পুনর্খনন করেন। তখন থেকেই খালটি জিয়া খাল নামে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু একদল প্রভাবশালীমহল ক্ষমতার দাপটে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট করায় খালটি সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পুকুরের মতো যে খালি জলাশয়টি আছে চারদিক থেকে তারও টুটি চেপে ধরা হয়েছে। একাধিক দোকান, বসতবাড়ি নির্মাণ ও ব্রিজের দুই পাশ বন্ধ করায় পৌরবাজার সহ পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও পৌরবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, 'পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত " জিয়া খালটি " দখল হয়ে গেছে। এতে পৌরসভা সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত এই খালটি পুনর্খনন করে প্রভাবশালীদের কবল থেকে উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।' উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল বলেন, 'পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে "জিয়া খাল" উদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। তাই জনগণের কল্যাণে এ খালটি উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, 'এই খালটি উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। খালের জায়গা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাজ করছি। প্রশাসন এ ব্যপারে তৎপর রয়েছে।' এলাকাবাসী জানায়, এ খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হলে পৌরবাসীর জলাবদ্ধতা লাঘবের পাশপাশি বহু কৃষিজমি আবাদের আওতায় আসবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত