ময়মনসিংহ মেইল

বরের গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়া সেই যুবক ছাত্রদল কর্মী

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-31 09:58:43 · স্টাফ রিপোর্টার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীদের গাড়ি আটকে নববধূকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আতিকুর রহমান নামের ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরেুদ্ধে। এ সময় মাইক্রোবাসটিতে ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন বরের স্বজনরা।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদ উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের কর্মী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে বিএনপির জনসভায় হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতা হিসেবে তিনি ডিউটি পাস পেয়েছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা।

হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক গাড়িটি থামান। এরপর মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালিয়ে নববধূ তামান্না আক্তারকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর তামান্না ও আতিকুর রহমান মিয়াদের কথিত সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল বলে জানা গেছে।

বরের গাড়ি আটকে কনেকে তুলে নেওয়ার পর আতিকুর রহমান মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!।’

আতিকুর রহমান মিয়ার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব বলেন, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী। তবে কীভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে ডিউটি পাস পেয়েছিলেন, সেটা আমি বলতে পারব না।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত আছি সে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী। মেয়ের পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সে ছাত্রদলের সমর্থক, তবে দলীয় কোনো পদে না থাকায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নাই।

হোসেনপুর থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, কনের পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, মিয়াদ নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে তামান্নাকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর কাছে জানা গেছে, তামান্নার সঙ্গে মিয়াদ মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবে রাজি না হওয়ায় মিয়াদ এ কাজটি করেছে। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত