বাবা-মা সচেতন হলে বাল্যবিবাহ অনেকাংশে কমানো সম্ভব: ইউএনও ফাতেমা জান্নাত
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-09 19:11:00 · ফরিদ মিয়া
বাবা-মা ও অভিভাবকেরা সচেতন হলে বাল্যবিবাহ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত।বুধবার নান্দাইল উপজেলা পরিষদ হলরুমে নান্দাইল উপজেলাকে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ামুক্তকরণে অঙ্গীকার অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। নান্দাইল এডিপি (এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিস), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, নর্দান বাংলাদেশ ক্লাস্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ইউএনও ফাতেমা জান্নাত বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক সমস্যা। এটি বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাবা-মা যদি সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন হন এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন, তাহলে বাল্যবিবাহ অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।তিনি আরও বলেন, শিশুশ্রম বন্ধ এবং বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধেও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের নর্দান বাংলাদেশ ক্লাস্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর রাজু উইলিয়াম রোজারিও। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নান্দাইল ঘাসফুল যুব ফোরামের সভাপতি নুসরাত জাহান সাথী ও সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ রাকিব।এ সময় বক্তব্য দেন নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক বাবুল, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তানভীনা পারভীন তৃণা, খুররম খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম রতন এবং নান্দাইল এপি ম্যানেজার সাগর জন কস্তা।বক্তারা বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানের শেষে নান্দাইল উপজেলাকে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ামুক্ত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা। এ উপলক্ষে তাঁরা গণস্বাক্ষর করেন।