ময়মনসিংহ মেইল

জলাবদ্ধতা নিরসনে খালে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করলেন এমপি

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-26 13:27:05 · স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ১১–দলীয় জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। তার এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার শতাধিক মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিলের পানি পঙ্গুয়াই খাল হয়ে কাকনী খাল দিয়ে দিয়ারা নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু কাকনী খালের সম্মুখভাগের কিছু জমি নিজেদের দাবি করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ করে দেন। এতে গত সাত-আট বছর ধরে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পঙ্গুয়াই খালে বিপুল কচুরিপানা জমে জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হয়েছে।

পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী—এই নয়টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের বাড়িঘর ও ফসলি জমি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পঙ্গুয়াই গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাক আহমেদ বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে তাদের শত শত একর ফসলি জমি দীর্ঘদিন পানির নিচে তলিয়ে থাকত। সংসদ সদস্য নিজে খালে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করায় তারা আশাবাদী, এবার এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে। কচুরিপানা পরিষ্কার করার পর আশপাশের পানি খালে নামতেও শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সংসদ সদস্য তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে পানিপ্রবাহের স্থায়ী ব্যবস্থা করবেন। তাহলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে শুধু আমাদের গ্রাম নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষও উপকৃত হবে। তার এ উদ্যোগ সফল হলে এটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সত্যিই একটি বড় উপকার ও আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে।’

একই গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় এ এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায় এবং জলাবদ্ধতার কারণে ফসলি জমি, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে আমরা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত পুনরায় খনন করে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং কৃষকের ফসলি জমিও জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে খালটি সচল হলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশেরও উন্নতি হবে।’

সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, ‘একসময় দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি ছিল খালগুলো। কিন্তু বেদখল, ভরাট ও কচুরিপানার স্তূপে অনেক খালই এখন নাব্যতা হারিয়েছে। সরকারি অনুদানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খালগুলো সচল করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির কারণে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, সেই জমি তিনি নিজে কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।’

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত