শেরপুরে তালাবদ্ধ ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের কসাইখানা
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-31 09:46:57 · স্টাফ রিপোর্টার
শেরপুরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের কসাইখানাটি নির্মাণের পর থেকেই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
যা কিনা দেশের ১৭ টি আন্তর্জাতিক মানের কসাইখানার একটি। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই। মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য ছিল এই প্রকল্পটির। কিন্তু নির্মাণ শেষে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেখানে একটি পশুও জবাই হয়নি।
ফলে বড় অঙ্কের সরকারি বিনিয়োগের বিপরীতে মিলছে না প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক ও জনস্বাস্থ্য সম্মত সুফল।
শেরপুর পৌর শহরের দমদমা কালিগঞ্জে কসাইখানাটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত দুই জুন মাসে কসাইখানাটি শেরপুর পৌরসভার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, কসাইখানাটির প্রধান ফটক বন্ধ। ভেতরে ও নেই নিয়মিত কোনো কার্যক্রম। একজন কেয়ারটেকার ও রয়েছে।
অথচ আধুনিক অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও বিপুল অর্থ ব্যয়ে তৈরি স্থাপনাটি সচল হলে স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় মাংস ব্যবসা এবং স্বাস্থ্য সম্মত মাংস যেমন পাওয়া যেত। তেমনি নতুন বাজার সৃষ্টির সুযোগ পাওয়া যেত।
শেরপুর জেলা শহরের বেশিরভাগ কসাই থাকেন চাপাতলী এলাকায়। তাঁদের অভিযোগ, সেখান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কসাইখানায় পশু নিয়ে জবাই করে আবার মাংসের দোকানে ফিরিয়ে আনতে বাড়তি পরিবহন খরচ হবে। এতে তাঁদের ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাবে।
আব্দুল কাদির, হেলাল মিয়াসহ একাধিক কসাই বলেন, দোকানের কাছাকাছি পশু জবাই করেই তাঁরা মাংস বিক্রি করেন। নতুন কসাইখানায় পশু নিতে পরিবহন খরচ, সময় ও শ্রম বাড়বে। অতিরিক্ত খরচ মাংসের দামের সাথে যুক্ত হয়ে দাম ও বেড়ে যাবে।
তাছাড়া ক্রেতারা সামনেই পশু জবাই করে মাংস কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কসাইখানায় পশু জবাই করে দোকানে মাংস আনলে ক্রেতারা ঘোরার মাংস সন্দেহ করাও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ হিসেবে তারা বলেন, ইদানিং অসাধু কোন কোন ব্যবসায়ী ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ ও উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, আন্তর্জাতিক মানের কসাইখানাটি চালু হলে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাইয়ের প্রবণতা কমতো। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাংস উৎপাদন ও সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতো। তাই কসাইদের পরিবহন ব্যয় ও ক্রেতাদের চাহিদার বিষয় বিবেচনায় কার্যকর সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। কসাইখানায় নিয়ে পশু জবেহ করলে অসুস্থ বা মৃতপ্রায় পশু জবাইয়ের সুযোগ থাকবে না বলেই কসাইরা সেখানে যেতে অনিহা প্রকাশ করেন।
শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ১৭টি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক কসাইখানার একটি এটি। স্থানীয়দের কাছে মানসম্মত মাংস সরবরাহ এবং এখান থেকে প্রক্রিয়াজাত মাংস বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য ও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কসাইখানাটি সচল রাখার মূল দায়িত্ব পৌরসভার।
শেরপুর পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক আরিফা সিদ্দিকা ইনকিলাবকে বলেন, 'গত জুন মাসে পৌরসভা কসাইখানাটি বুঝে নিয়েছে। শহর থেকে দূরে হওয়ায় কসাইরাও সেখানে যেতে চায় না। আলোচনার মাধ্যমে কসাইখানাটি চালুর উদ্যোগ নিতে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, কসাই ও পৌরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত বৈঠক করা হবে।'
প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনা তিন মাস ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকায় শুধু অবকাঠামোর ক্ষতিই হবে না। তার সুফল সুফল থেকে জনগণ কোন সুফলই পাবেনা।কসাইদের পরিবহন ব্যয় কমানো। ক্রেতাদের অভ্যাসে পরিবর্তন আনা এবং কসাইখানার সঙ্গে স্থানীয় মাংসের বাজারের সংযোগ তৈরি করা না গেলে বিপুল বিনিয়োগের সুফল পাবে না জনগণ তথা সরকারের উদ্দেশ ও ভেস্তে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।