ময়মনসিংহ মেইল

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় ৩২ বছর, সিবিএমসি ডে উদযাপন

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-19 09:14:42 · স্টাফ রিপোর্টার

প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ৩২ বছর আগে যাত্রা শুরু করা কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশ (সিবিএমসি) প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সিবিএমসি ডে’ উদযাপন করেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকেরা জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো ‘সিবিএমসি ডে’ উদযাপন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে দিনটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের আয়োজনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

সকালে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। পরে দিনব্যাপী চলে নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও বিভিন্ন আয়োজন।

সিবিএমসির অধ্যক্ষ ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, প্রয়াত অধ্যাপক মোফাক্করুল ইসলাম নিজ হাতে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু। গত বছর প্রথমবারের মতো সিবিএমসি ডে উদযাপন করা হয়। ভবিষ্যতেও শিক্ষকদের নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে এ আয়োজন করা হবে।

প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য কতটা পূরণ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াই ছিল সিবিএমসির মূল লক্ষ্য। গত ৩২ বছরে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রতিষ্ঠানটি অনেকটাই এগিয়েছে।

সিবিএমসির অধ্যক্ষ বলেন, শতভাগ না হলেও আমরা ৯০ শতাংশ চেষ্টা করেছি, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সব সময় সেবা দিতে পারি। আমাদের হাসপাতালে শয্যার ভাড়া ও রোগীদের চিকিৎসাসেবার খরচ অত্যন্ত কম। সারা বাংলাদেশে এমনটা আর কোথাও হয় কি না, আমাদের জানা নেই।

সিবিএমসির সামনে এখন অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের স্বীকৃতি পেলে এ কলেজের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা এবং চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ আরও বাড়বে।

ডা. মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, বোর্ড যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়, তাহলে সারা বিশ্বে আমাদের চিকিৎসকেরা চাকরি করার সুযোগ পাবেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেলেও সফল হওয়ার সুযোগ বাড়বে। আমরা যাতে এই অ্যাক্রেডিটেশনে উত্তীর্ণ হতে পারি, সে জন্য সবার দোয়া চাই।

শিক্ষার পাশাপাশি সিবিএমসিতে গবেষণার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিবিএমসির অধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা গ্রামে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেন। এসব গবেষণা প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে প্রকাশ করা হয়। গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠান থেকেও অনুদান দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের দুটি দলকে গবেষণার জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছেন।

মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করেই এসব গবেষণার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা যাতে সহজে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটিই গবেষণার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিবিএমসির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল মান্নান। বক্তব্য দেন সিবিএমসি ডে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ চৌধুরী, ইমদাদুল হক শাকিলসহ সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত