সেনাবাহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হলে দেশের বাঁক পরিবর্তন সম্ভব: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার
ক্যাম্পাস মেইল · 2026-11-07 12:18:38 · স্টাফ রিপোর্টার
সেনাবাহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হলে দেশের বাঁক পরিবর্তন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।শনিবার (০৭ নভেম্বর ২০২৬) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ।আলোচনা সভায় ট্রেজারার বলেন, দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে হলে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলোচনা করা প্রয়োজন। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল, পরবর্তীতে সেই চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকায় মানুষের মনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়।তিনি আরও বলেন, সে সময় দেশের প্রশাসনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তেমন কিছু জানতে পারছিল না। এমনকি গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছিল না। পরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী ও জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ছিল। আন্দোলনরত সিপাহী-জনতা সেদিন তাঁকে মুক্ত করে মাথায় নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছিল।প্রধান অতিথি আরও বলেন, সেনাবাহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে চাইলে দেশের বাঁক পরিবর্তন করতে সক্ষম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেমন তা ঘটেছিল, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েও তা ঘটেছিল। এখন সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারলেই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ফলপ্রসূ হবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিবসটি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. তানজিল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা-প্রিন্স), অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দিন, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, বিভাগীয় ও দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য-সচিব মামুন সরকার।উল্লেখ্য, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহৎ পরিসরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।