দূর থেকেই দৃশ্যটি চোখে আটকে গেছে। চোখের পাতা এক করতে পারছি না । ক্যামেরায় বন্দী করার উপকরণ নেই। তাই মনের সেলুলয়েড বেধে রাখছি। বুকের ভিতরটা শিরশির করে উঠছে। দৃশ্যটি কত চিরচেনা জানা আপন। চিরচেনা একটি গল্পের মতো। আমাদের বাড়ির সামনেই পুকুর পাড়ে রেললাইন । পাড়েই খেজুর গাছ, তালগাছ পাশাপাশি । শীতের বাতাস আগমনের সাথে সাথেই তোড় জোর শুরুর শুরু হয়ে যেত । বিশেষ করে আমার ঠাকুরমা, মা আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা। আর রস আহরন একধরনের নিপুণ হাতের কারিগরের একটা শিল্প । রসের হাঁড়িতে দড়ি বাধা, গাছে কত উচ্চতায় বাকল তুলতে হবে ত্রিকোনাকার করে এ যেন দক্ষ কারিগরী বিষয় । আর যে দাঁ দিয়ে গাছ ছিলতে হবে সেটাও অন্যরকম ভাবে তৈরি । কোমরে বাঁধার দড়ি, এক বাঁশের মাচা, রস চুয়ে হাঁড়িতে জমা হবার চোঙ নানান রঙের সব মিলিয়েই রস সংগ্রহের যুদ্ধ । আর এ যুদ্বে সেনাপতি আমার মেঝো দাদা। মানিকদা। আমরা ডাকি ধনদা। বাঁদুরে, পাখি যাতে নষৃট বা খেতে না পারে জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া। আবার ভোরের কুয়াশা কেটে যাবার আগেই রস নামিয়ে আনা। আজও কুয়াশায় ঢাকা খেজুর গাছ দেখলেই সেই দিনের সেই রসের হাঁড়ি নামানোর সময় নীচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার সোনালী অতীত এমন ভাবে শরীরকে কাঁপিয়ে দেয় আর এ জীবনেও ঐ শীত স্পর্শ করবে না কোনদিন।