ময়মনসিংহ মেইল

জিডির প্রতিশোধে সাথীকে হত্যা, যুবককে মৃত্যুদণ্ড

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-08 12:07:55 · স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া জুবলি কোয়ার্টার এলাকায় সাথী আক্তার (৩৮) নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. শামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হৃদয় মিয়া (২৯) আকুয়া জুবলি কোয়ার্টার এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আকুয়া জুবলি কোয়ার্টার এলাকায় সাথী আক্তারের ভাড়া বাসায় হত্যাকাণ্ড ঘটে। রাত আনুমানিক ২-৫টার মধ্যে হৃদয় ওই বাসার দরজায় টোকা দেন। সাথী দরজা খোলার পর হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সাথীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সাথীর ছোট বোন মোছা. শিউলি আক্তার বাদী হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়।

পরে তদন্ত শেষে হৃদয়কে একমাত্র আসামি করে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মেহেদী হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ২৪ সেপ্টেম্বর হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন হৃদয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগে মোবাইলে সাথীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে হৃদয়ের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়েছিল। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের আগের দিন থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) করেন সাথী। এর জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আদালত ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ার আজিজ বলেন, ‘আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালত ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে হৃদয় মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।’

এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সাথীর ছোট বোন ও মামলার বাদী মোছা. শিউলি আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমার বোনকে হৃদয় মোবাইলে কল দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। এর জেরে হৃদয় আমার বোনকে মারধর করে মোবাইল নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েও আমরা কোনো বিচার পাইনি। বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করি।’

শিউলি আরও বলেন, ‘জিডি করার বিষয়টি জানতে পেরে হৃদয় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের হুমকি-ধমকি দেয়। এরপর রাতে আমার বোনকে মারধর করে হত্যা করে। আজ আদালতে হৃদয়ের ফাঁসির রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে রায় দ্রুত কার্যকর হলেই আমাদের মন শান্ত হবে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি- দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হোক।’

তবে এ রায়ে সন্তুষ্ট নন আসামিপক্ষের স্বজনরা। হৃদয়ের মামা বাবুল মিয়া জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত