বিদ্যালয়ে ঝাড়ু না দেওয়ায় শিক্ষার্থীকে মারধর
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ঝাড়ু না দেওয়ায় বেদম পিটিয়েছেন এক নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি। এ ঘটনায় অভিভাবকরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের ‘মব সৃষ্টিকারী’ বলে অভিহিত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২২ অক্টোবর) বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ৬০ নম্বর নয়াদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু বক্কর সকালে স্কুলে পৌঁছালে দপ্তরি জাহিদুল ইসলাম তাকে ঝাড়ু দিয়ে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে বলেন। শিক্ষার্থী তা অস্বীকার করলে দপ্তরি জাহিদুল তার দুই গালে চড় মারেন। পরে শিশুটি দৌড় দিলে তাকে ধরে ফের মারধর করেন।
শিক্ষার্থীর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পরে ঘটনাটি অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তারা বিদ্যালয়ে এসে বিচার দাবি করলে প্রধান শিক্ষিকা খালেদা বেগম তাদের ‘মব সৃষ্টিকারী’ বলে অভিহিত করেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, দপ্তরি জাহিদুল নিয়মিত তাদের দিয়ে শ্রেণিকক্ষ, টয়লেট ও মাঠ পরিষ্কার করান। কেউ অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক শাস্তি দেন।
শিক্ষার্থীর বাবা জুয়েল ইসলাম বলেন, “আমরা সন্তানদের মানুষ করার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠাই, আর সেখানে দপ্তরি তাদের দিয়ে ঝাড়ু দেওয়াসহ পরিষ্কারের কাজ করান। মানতে না চাইলে মারধর করেন। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বোদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি শুনেছি, তবে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের গায়ে কেউ হাত তুলতে পারবে না।”