টেকনাফে শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনায় আটক সশস্ত্র গ্রুপের ৫০ সদস্য
টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
এ ঘটনা ও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় আরসাসহ বিভিন্ন স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫০ সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। এ সময় আরও দুই রোহিঙ্গা কাঁকড়া শিকারিকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত থেকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। সকালের দিকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় আরকান আর্মি। হামলায় টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পিছু হটে। আরকান আর্মিরা গুলি ছুটতে ছুটতে বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসে। আরাকান আর্মির ছোড়া গুলিতে লম্বাবিল এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খেলার সময় হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হয়।
আহত শিশুর বাবা জসিম উদ্দিন জানান, তার কানের পাশে গুলি লাগার কারণে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে, এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, নাফ নদের বিলাইছরি ও হাসরদ্বীপে ধোঁয়ার কুন্ডলী। স্থানীয়রা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনী ও উখিয়া টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন ও অবরোধ তুলে নেন।
এদিকে সীমান্তের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৫০ সদস্যকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ ৫০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র জানান, আরসাসহ ৫০ স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হবে।