‘হাদির মস্তিষ্ক থেকে গুলি বের করা হয়েছে’
দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছায়।
এর আগে শুক্রবার দুপুর
২টা ৩৫ মিনিটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে
আনা হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। সন্ধ্যায় ঢামেক
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, অস্ত্রোপচারের
সময় হাদির মাথার ভেতরে কোনো গুলি পাওয়া যায়নি। সার্জনদের ধারণা অনুযায়ী, গুলিটি মাথা
ভেদ করে বেরিয়ে গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়,
শুক্রবার দুপুরে পল্টনের বিজয়নগর কালভার্ট এলাকায় জুমার নামাজ শেষে রিকশায় করে যাওয়ার
সময় দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবর্ষণের পর হামলাকারীরা
দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। হাদির সঙ্গে থাকা মিসবাহ জানান, ঘটনার পর তাকে রিকশাতেই দ্রুত
হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে শরিফ ওসমান হাদির
ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশের বিভিন্ন
এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম
দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আহত হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে
সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীকে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার
কঠোর নির্দেশও প্রদান করেন তিনি।