পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরের বিরুদ্ধে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের
সভাপতি নুরুল হক নুরকে বিএনপি থেকে নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে মনোনয়ন দেয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা
হাসান মামুনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন গলাচিপা উপজেলা
বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। এতে করে
এই আসনে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন নুরুল হক নুর ও হাসান মামুন।
জানাগেছে , গত ২৪ ডিসেম্বর পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা
ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসনটিতে জোটের প্রার্থী হিসেবে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার
পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম ঘোষণা করেন। এতে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি
হয়। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে দলীয় কার্যালয়ে
দশমিনা উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক বর্ধিত সভার আয়োজন করেন।
সভায় এ আসনটিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাড় দিতে নারাজ জোটের প্রার্থীকে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের
সিদ্ধান্ত নেন তারা। হাসান মামুনের নেতৃত্বে
আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন নেতাকর্মীরা।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর
রহমান বলেন, ‘কেন্দ্র কিভাবে নমিনেশন দিছে তা আমরা জানি না। কিন্তু তৃণমূল বিএনপির সিদ্ধান্তে হাসান মামুন নির্বাচন
করবে। মার্কা যাই হোক, আমরা হাসান মামুনের
সঙ্গে আছি।’
জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের
সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন
ছিলেন এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই আসনটিতে
হাসান মামুন ছাড়া বিএনপির অন্য কোনো শক্তিশালী প্রার্থী নেই।
বর্ধিত সভায় টেলিফোনে বক্তব্য দেন হাসান মামুন। তিনি বলেন, ‘গত ৪৬ বছর এখানে বিএনপি কোনো সংসদ সদস্য
পায়নি। তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তে
আমি নির্বাচন করব। এছাড়াও গলাচিপা-দশমিনার
নেতাকর্মীরা কোনো জোটের প্রার্থীকে মানে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা একটি ঐতিহাসিক বিজয়ের
মুহূর্তে রয়েছি। সেই বিজয়কে কাজে লাগিয়ে আমরা
এই গলাচিপা-দশমিনাকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’