ময়মনসিংহ মেইল

জালাল উদ্দীন খাঁ'র তত্ত্বদর্শন (পর্ব ৫)

সাহিত্য সংস্কৃতি · 2026-09-10 12:46:42 · রব নেওয়াজ খোকন

নিগুঢ়তত্ত্বমুসলিম দর্শনের ইতিহাসে একদল উন্নত ও মুক্তচিন্তার মানুষ প্রাচীন কাল থেকে তাঁদের চিন্তা-চেতনা ও প্রজ্ঞাকে গোপনীয়তার আশ্রয়ে লালন করে এসেছেন। কারণ, তাঁদের ধর্ম সংক্রান্ত মৌলিক ও সৃজনশীল ভাবনা সাধারণ লোকেদের কাছে ছিলো জটিল ও দূর্বোধ্য। সাধারণ শ্রেণির গোঁড়ামির কারণে এসব তাত্ত্বিক বিষয় কখনোই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেনি। ফলে মুসলিম সমাজ দুটি দল বা গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি দার্শনিক শ্রেণি ও অন্যটি সাধারণ শ্রেণি। দার্শনিক শ্রেণির গভীর প্রজ্ঞাময় মতাদর্শ সাধারণ শ্রেণির কাছে পরিত্যাক্ত হয়। এমন কি দার্শনিকগণকে সাধারণ শ্রেণির রোষানলের শিকারও হতে হয়েছে। সংখ্যালঘুত্বের কারণে দার্শনিকেরা তাঁদের জ্ঞান চর্চায় কিছুটা প্রচার বিমুখ ও গোপনীয়তার আশ্রয় নেয়। যদিও তাঁদের সে সম্পর্কিত তথ্য ও তত্ত্ব সমৃদ্ধ লেখালেখি বা গ্রন্থ রচনা অব্যাহত থাকে। তবে সেসব রচনায়ও একটা গোপনীয়তার পর্দা দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। আর এভাবেই সূফীদর্শন ও বাউলদর্শনে নিগুঢ়তত্ত্ব বিষয়টির অবতারণা। নিগূঢ় বা গোপনতত্ত্ব বিষয়ক জ্ঞানের চর্চিত একটা বড় অংশ বাউল সাধকদের মধ্যে যুগে-যুগে  প্রতীয়মান হতে দেখা গেছে। প্রায় সকল সূফীসাধকগণই এ গোপনীয়তার বিষয়টিকে বিশ্বাস করেন ও লালন করে থাকেন। এসব তত্ত্ব বিষয়ক জ্ঞানকে তাঁরা নিগূঢ়তত্ত্ব বলে অভিহিত করেন। কেউ কেউ এ-কে বাতেনি জ্ঞান বলেও উল্লেখ করেন। তাঁরা ধর্মগ্রন্থীয় বিষয়বস্তুকে জাহেরি ও বাতেনি দুটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন। যে জ্ঞান সাধারণ মানুষ তথা প্রাথমিক পর্যায়ের নবীনসাধকদের মাঝে প্রকাশ্যে প্রচারিত, তা হলো জাহেরি জ্ঞান। আর জ্ঞানের যে মৌলিক ও প্রজ্ঞাময় অংশ কেবলমাত্র উচ্চস্তরের সাধকদের মাঝে গোপনে আলোচ্য, তা হলো বাতেনি জ্ঞান। এ বাতেনি জ্ঞান বা তাসাউফের শাখা-প্রশাখা চড়েই ইলমে-মারেফাতের হাকিকি জ্ঞান অর্জন করতে হয়। তখনই সাধক লাভ করতে পারেন সাধনার সর্বোচ্চ মোকাম বা পরমসত্তার সান্নিধ্য। উল্লেখ্য যে, সূফীপথ-পরিক্রমার চারটি স্তর রয়েছে। যথা: ১.শরিয়ত ২.তরিকত ৩. হাকিকত ৪. মারিফত । এ চারটি স্তরের ধারাবাহিকতা বাউলসাধকগণও অনুসরণ করে থাকেন। এর প্রথম তিনটি সাধনাভিত্তিক পর্যায়ক্রমিক স্তর, চতুর্থটি হলো সফলতার চুড়ান্ত স্তর। যে স্তরে সাধক সিদ্ধ হন। উল্লেখিত স্তরগুলোর প্রথম ও দ্বিতীয়টির বিষয়বস্তু সর্বমহলে প্রকাশোপযোগী। তৃতীয়টির জ্ঞান সাধারণে প্রকাশ নিষিদ্ধ। কারণ, এ জ্ঞানের ভার বহনে নিয়ন্ত্রণ হারাবার ভয় থাকে। আর নিয়ন্ত্রণ হারালেই সামাজিক বিপত্তি এবং শরিয়তের নিয়ম-বিধির শৃংখলা লংঘিত হয়। বস্তুত এ দায়িত্ববোধ থেকে প্রাচীনকাল থেকে সাধুগণ তা গোপন রাখার চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু বাউলবাদে বাউলের পরমপ্রেমের উন্মাদনায়, সাধারণ বোধের বিলুপ্তির কারণে তা প্রকাশ্যে রূপ নিতে দেখা যায়। জালাল উদ্দীন খাঁর রচনার বহুলাংশে তাই ঘটেছে। তবে আবরণগত একটা প্রচেষ্টাও কার্যকর রয়েছে। নিচের গানটি বিশ্লেষণ করে আমরা মারেফাতের নিগুঢ়তত্ত্ব সম্পর্কে বেশ খানিকটা জানতে পারি।
মারিফাত বিচার করোবসিয়ে শরিয়তের কোলে,ষাট হাজার গোপনকথানিষেধ করেছেন রাসুলে।।
শরিয়তে নামাজ-রোজাইবাদতের রাস্তা সোজা,মারিফাতে আলী-মর্তুজামধু খেয়ে গেছেন ফুলে।।
শরিয়তে নাও সাজাইয়াতরিকতে মাল ভরিয়া,হক সাহেবের হাটে গিয়াদাও মারিফাতের পাল্লায় তুলে।।
হাওয়া মাটি আগুন পানিতাদের কি খোদা মানি?দশ দিকেতে টানাটানিপড়ে মস্ত কথার ভুলে।।
কানে কানের কথা শুনেসন্দেহ লেগেছে প্রাণে,লেখা কথায় পাই কেমনেকোন কথা রয়েছে মূলে।।
লেখা ছেড়ে দেখা বিচারকরলেই বোঝা যায় সারাসার,জালাল না পেয়ে কিনারপড়িতেছে বিষম গোলে।।
কবি শরিয়তের কোলে বসিয়ে মারেফাত বিচার করতে বলেছেন। কারণ শরিয়তকে এড়িয়ে মারেফাতের জ্ঞান আহরণ অসম্ভব। সে জ্ঞান অর্জনে গোপনীয়তার শর্তে রাসুলের হুঁশিয়ারিকেও এখানে ব্যক্ত করেছেন। মহানবি মোহাম্মদ (স.) ষাট হাজার কথা গোপন রাখার নির্দেশ দিলেও সাধকদের আলোচনার স্রোতে কিছুকথা ভেসে উঠেছে উপরের স্তরে। জালালের গানেও আমরা এটি দেখতে পাই। নামাজ-রোজাসহ অন্যান্য আচারসর্বস্ব ইবাদতের কাজ সহজ, কিন্তু মারেফাতের রাস্তা অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপদসংকুল। যে রাস্তাটি ধরে আজীবন পথ হেঁটেছিলেন রাসুলের যোগ্য উত্তরসুরি হযরত আলী (র.)। একমাত্র তিনিই সেই ফুলসদৃশ জ্ঞানের রস আস্বাদনে সক্ষম হয়েছিলেন। মহানবির কথায় এর প্রকাশ আমরা উপলব্ধি করতে পারি। মহানবির প্রসিদ্ধ একটি হাদিস "আমি হলাম জ্ঞানের শহর, আর আলী তার দরজা।" বস্তুত মাওলা আলী (আঃ) থেকে, স্বপত্নী ও নবিনন্দিনী ফাতেমা এবং তাঁদের সন্তানদ্বয় হাসান-হোসাইনের মাধ্যমে এ জ্ঞানতত্ত্ব পর্যায়ক্রমে বিকাশ লাভ করে। সেজন্য সূফীসাধকগণ, মহানবি (স), হজরত আলী (র), ফাতেমা (র), হাসান ও হোসাইন (র),  এই পাঁচজনকে 'পাকপাঞ্জাতন' বলে একক নামে অভিহিত করেন। মারেফাতের এ জ্ঞান লিখিত-অলিখিত ভাবে, ব্যক্তিভিত্তিক সুযোগ্য শিষ্য পরম্পরায় যুগযুগান্তর ব্যাপি বিস্তৃত হচ্ছে। যদিও একসময় তা গ্রন্থবদ্ধ হতেও শুরু করে। শরিয়তের গুরুত্বকে সমুন্নত রেখে জালাল আরও বলেন, শরিয়তের সজ্জিত নৌকায় তরিকতের মাল ভরে, হাকিকতের হাঁটে গিয়ে মারেফাতের পাল্লায় তুলে দাও। এখানে তিনি শরিয়তকে বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান ও চাকচিক্যের নান্দনিকতা দিয়ে তরিকত চর্চার মাধ্যমে নিজেকে মারেফাতমুখি হতে নির্দেশ দিচ্ছেন। দশদিকের দশমতের বিভ্রান্তিতে যেনো আমরা সাধনার সঠিকপথের দিশা না ভুলি। গানটির শেষাংশে বিভ্রান্তির বিষয়টি আরোও স্পষ্ট। সর্বমহলে প্রকাশিত তথ্য আদৌও সত্য কিনা এ নিয়ে কবির সন্দেহ। তিনি বরং লিখিত দলিল-দস্তাবেদ অপেক্ষা নিজস্ব দর্শনকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন। কারণ, প্রকাশিত হরেক মতের মধ্য থেকে সঠিকপথ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বকীয় দর্শনবোধের বিকল্প নেই।
পক্ষান্তরে স্বকীয় দর্শনে জালাল কখনো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সকল জানা, দেখা ও বোঝাকে অসারতার অন্ধকারে ঠেলে জ্ঞানশূন্যতার চরম ও পরম অসীমতায় নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছেন। সূফীদর্শনে যে অবস্থাটিকে 'লা মোকাম' বলে অভিহিত করা হয়েছে।নিম্নলিখিত গানে আমরা সেই 'লা' বা শূন্যতার ব্যাপক বৈচিত্র দেখতে পাই।
শূন্য হতে শূন্য হয়েশূন্যে বদ্ধ রই আবার,আমি শূন্য তুমি শূন্যশূন্য আমার চারি ধার।।
দুনিয়ায় সব শূন্য কাণ্ডশূন্যময় এই ব্রহ্ম অণ্ড,বিচার কালে শূন্য দণ্ডশূন্যে শূন্য একাকার।।
এই অনন্ত মহাশূন্যব্যাপিয়া যে আছে শূন্য,সপ্তশূন্য কোটির মাঝেনবশূন্যের আবিষ্কার।।
শূন্য যখন হইলো পিতাআমি হলাম শূন্যলতা,শূন্যেতে রহিলাম গাঁথাদশং শূন্যে অন্ধকার।।
জন্ম হইতে লক্ষ শূন্যমোটামুটি কোটি শূন্য,দিলাম সদায় শূন্যে শূন্যশূন্য রইলো উদর আমার।।
শূন্যেরে আজ মান্য করেভিন্ন হলাম পরস্পরেশূন্যে আমার শূন্য হরে,শূন্য করলো প্রেম ভাণ্ডার।।
পূন্যের ঘরে শূন্য দিয়াজালাল উদ্দীন আছে বইয়া,শূন্যে শূন্য মিলাইয়াদিতে পারলেই হয় যে তার।।
এই যে শূন্যতার ভেদকাব্য, এতে কেবল জীবনরহস্যের দিশাহীন বোধের পরিচয়ই স্পষ্টতা পায়। তত্ত্বদর্শিতা যখন ব্যর্থতায় নিমজ্জিত হয়, সাধক তখন সাধনার গদি ছেড়ে দ্রোহবাদী হয়ে ওঠে দাঁড়ায়। জালালের বেলায় তাই হয়েছে। তাঁর গানে বর্ণিত শূন্যতার ব্যাখ্যা অত্যন্ত তিক্ত। এ তিক্ততার স্বাদকে অমৃতময় করে তুলতে প্রজ্ঞাবাদের শেষ চূড়ায় উঠতে হয়। যেখান থেকে স্বজ্ঞার অবতারণা।  সেকারণেই নিছক প্রজ্ঞার আলোয় পরমকে দেখা যায় না। সাধনার এ পর্যায়ে বিকল্প পথ হিসেবে স্বজ্ঞায় প্রত্যাবর্তন জরুরি হয়ে পড়ে। কেননা, পরম-প্রাপ্তির ঘরে যখন শূন্যতা বিরাজ করে, তখন পরমও শূন্যময় হয়ে ওঠে। আর পরম যেখানে শূন্য, তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই শূন্যতার অর্থ বহন করে। মূল্যবোধের স্কেলে এ দর্শনকে মূল্যায়িত করার উপায় থাকে না। কাজেই এদিকটায় আর না এগিয়ে, বিষয়টাকে বাতেনি পর্দায় ঢেকে আমরা কবির অন্য একটি ভাবনায় চোখ ফেরাই।
জালাল উদ্দীন খাঁর নিগূঢ়তত্ত্ব জুড়ে, বহুগানে বহুচিন্তার উন্মেষ ঘটলেও মানবিক চিন্তার তরঙ্গটাই বেশি সুস্পষ্ট। আর এ তরঙ্গই মানবতাবাদের পথ বাতলে দেয়। নিম্নলিখিত গানে আমরা এর ইংগিত পাই।
চিনগে মানুষ ধরে... মানুষ দিয়া মানুষ বানাইয়াসেই মানুষে খেলা করে।।
কীসে দিব তার তুলনাকায়া ভিন্ন প্রমাণ হয় নাপশু-পক্ষী জীব আদিযত এ সংসারে...দুইটি ভাণ্ডের পানি দিয়াঅষ্ট জিনিস গড়েতার ভিতরে নিজে গিয়াআত্ম-রূপে বিরাজ করে।।
মায়াসুতে জাল বুনিয়াপ্রেমের ঘরে ভাব জাগাইয়াপ্রাণেতে প্রাণ মিশাইয়ারহে জগত জুড়ে...নবরঙে ফুল ফুটিলেভ্রমর আসে উড়েফুলের মধু দেখতে সাদাআপনি খেয়ে উদর ভরে।।
সমুজ নিয়ে দেখো চেয়েপুরুষ নহে সবাই মেয়েথাকবে যদি পুরুষ হয়েচলো ভেদ-বিচারে...একটি পুরুষ জগত মাঝেনিজ ছুরতে ঘোরেলক্ষ নারীর মন যুগাইয়াপ্রেমের মরা আপনি মরে।।
কবি মানুষকেই পরমসত্তার একমাত্র সুযোগ্য আবাস ক্ষেত্র বলে চিহ্নিত করেছেন। আশরাফুল মাখলুকাৎ হিসেবে মানুষের বিকল্প প্রাণীর অস্তিত্ব এখনো অনাবিষ্কৃত। মানুষের জানা মতে অন্য জীবের মাঝে ঐশী চেতনা আছে বলেও প্রমাণ পাওয়া যায় না। ঐশী চেতনা বা ধারণা, মানুষ কর্তৃক আবিষ্কৃত বলেই এর শ্রেষ্ঠ আবাসন কেবল মানবেই রয়েছে। সে সূত্রে মানুষই ঈশ্বরের সঠিক ঠিকানা। ধর্মগ্রন্থেও এ মতকেই চুড়ান্তভাবে দেখানো হয়েছে। তাই কবির আহ্বান, চিনগে মানুষ ধরে। মানুষ দিয়ে মানুষ তৈরি করে এই মানুষের মাঝেই তিনি খেলে যাচ্ছেন নিরন্তর। মানুষই নিরাকার সত্তার আকারগত অস্তিত্ব। অতএব আকারকে উপজীব্য করেই নিরাকারের রহস্য উন্মোচন করতে হবে। কেবল মানবাত্মাই নয়। অন্যান্য উন্নত-অনুন্নত সকল জীবের আত্মাই তাঁর প্রতিরূপ। দুটি ভাণ্ডের পানি, অর্থাৎ শুক্রাণু-ডিম্বাণুর সমন্বয় ঘটিয়ে স্বসৃষ্ট সৃষ্টিতে বিলীন হয়েছেন তিনি। ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণে এর চেয়ে বড় আর কোনো যৌক্তিক মাপকাঠি নেই। আমিত্ব যেখানে বাস্তব, পরমত্ব সেখানে অবাস্তব বা অবিশ্বাস্য হতে পারে না। কেননা, জীবত্ব পরমত্বেরই ছায়া বা প্রতিরূপ। এ ছায়ার অনুসরণেই ঈশ্বরের অনুগামী হতে হয়।  সাধকের মতে, সৃষ্টিত্বের মাঝে রয়েছে স্রষ্টার মহাপ্রেমের মহাজাল ও মহামায়ার বিস্তার। প্রাণে প্রাণে প্রেমাসক্তি এবং দেহে দেহে মিলনাসক্তির রসায়নে সিক্ত হয়ে নিজেকে  চিরকাল মেলে ধরছেন তিনি। নব-নব সৃষ্টি রূপে যুগে-যুগে নিজেকে প্রকাশ করছেন তিনি। প্রেম কিংবা দেহগত মিলনের সুখানুভব যেনো একমাত্র তাঁরই অবাধ ভোগের বিলাসিতা। সৃষ্টির উপভোগ, স্রষ্টার উপভোগের নামান্তর। এখানে সাধক স্রষ্টাকে মুখ্যতা দিয়ে নিজেকে দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত করেছেন। গানের শেষাংশে তিনি বিষয়টির বিশ্বাসযোগ্যতার  পথও দেখিয়েছেন। সমুজ নিয়ে ধ্যান করে এ সত্য উপলব্ধি করা সম্ভব। সুফীবাদের প্রসিদ্ধ এ ধ্যান ভিত্তিক আত্মনিমগ্নতায় এটাও ধরা পড়ে যে, জগতের একমাত্র পুরুষসুলভ সত্তা একমাত্র স্রষ্টা। আর সৃষ্টি হলো তাঁর নারীরূপী ভোগ্য উপকরণ মাত্র। আর এই এক পুরুষই জগতের সকল নারীর মন যুগিয়ে নিজকে মহাপ্রেমের মহাসাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন। এ সত্য কিংবা তত্ত্বকে উপলব্ধি করে সাধনায় মত্ত হয়ে সিদ্ধ হতে পারলে, সৃষ্টি থেকে স্রষ্টার গুণে উন্নীত হওয়া যায়। তখনই নিজেকে পুরুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে। কেবল সিদ্ধপুরুষগণই সত্যিকারের পুরুষ। এ ছাড়া অন্যান্য সকল সত্তা নারী বা প্রকৃতি।
মূল্যবোধ:জালাল উদ্দীন খাঁ'র নিগুঢ়তত্ত্ব জুড়ে যে উচ্চতম অধিবিদ্যিক দর্শনের রূপরেখা স্পষ্টতা পেয়েছে, তা সুফীবাদী ফানা বা বাক্কার চুড়ান্ত সত্যের অভিব্যক্তি। বৌদ্ধদর্শনে তা সমাধি। আধুনিক দর্শনে এটিকে "জিরো থট" বলে উল্লেখ করা হয়। ঠিক এখানে এসেই একজন সাধক নিজেকে মহাসত্তায় বিলীন করে মহাশূন্যতায় মিশে যান। (চলবে)

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত