ময়মনসিংহ মেইল

স্বামী হারিয়ে দিশেহারা দুই স্ত্রী, দুজনই অন্তঃসত্ত্বা

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-16 09:46:24 · স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) আগুনের আতঙ্কে ছোটাছুটির সময় পদদলিত হয়ে নিহত হন ফুলবাড়িয়ার বিদ্যানন্দ গ্রামের রমজান আলী (৩৮)। একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার দুই স্ত্রী। তাদের দুজনই অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীর মৃত্যুতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

নিহত রমজান আলীর প্রথম স্ত্রী খাদিজা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। স্বামীই ছিলেন সংসারের একমাত্র ভরসা। স্বামীকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার আশায় তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামীর লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।

খাদিজা বলেন, আমি স্বামীর ক্ষতিপূরণ চাই। আমার কোনো অর্থ-সম্পদ নেই, চলার মতো কোনো পথও নেই। আমি স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম সুস্থ করে বাড়ি নিয়ে আসব বলে। কিন্তু আমার স্বামী এখানেই মারা গেল। আমার চারটি সন্তান। আবার আমি গর্ভবতী। আমার স্বামী সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাতেন। এখন আমি কী খাব, সন্তানদের কীভাবে বড় করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

অন্যদিকে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী খাতিজা আক্তারও অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীর মৃত্যুর পর এক সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। তার নিজের কোনো ঘরবাড়ি নেই। স্বামী যে ছোট্ট একটি ঘর করে দিচ্ছিলেন, সেটিও এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

খাতিজা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেছিল, আমি আসতেছি, সুস্থ হয়ে গেছি। কিন্তু সে আর বাড়িতে আসতে পারল না। আমার স্বামীকে চাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারণে যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে আমি তাদের শাস্তি চাই।

তিনি আরও বলেন, আমি আগে গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসার চালাতাম। এখন আমি অন্তঃসত্ত্বা, তাই চাকরি করতে পারি না। আমার এই মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব? কে আমাদের খাওয়াবে? আমার বাড়িঘর কিছুই নেই।

স্বামীর সংসারে সিএনজিটিই ছিল বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন জানিয়ে খাতিজা বলেন, আমার স্বামী সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাতেন। অনেক কষ্ট করে সিএনজিটি কিনেছিলাম। এখনো সেই ঋণ শোধ করতে পারিনি। স্বামী চলে যাওয়ার পর আমি কীভাবে সেই ঋণ শোধ করব?

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনেরা আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যেই জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনার তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্টারে তথ্য লিখেছিলেন। তবে ওই চারজন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন, এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তাদের শরীরেও পদদলিত হওয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, লিফটে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত