প্রেমের বিয়ের পর বিচ্ছেদ, ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনের মরদেহ উদ্ধার
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-11-04 07:16:39 · স্টাফ রিপোর্টার
প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে। এরপর পারিবারিক চাপে বিচ্ছেদ। সেই বিচ্ছেদের ২০ থেকে ২৫ দিনের মাথায় মাত্র ৮-৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সাবেক স্বামী-স্ত্রীর দুজনেরই ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের আটবাড়ি গ্রামে নিজ ঘরের বারান্দা থেকে মো. সাকিব মিয়া (২৩) নামে এক দিনমজুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুরে মারা যান তার সাবেক স্ত্রী মুক্তা আক্তার (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাকিব মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের আটবাড়ি গ্রামের সুনো মিয়ার ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। স্ত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এর মধ্যেই প্রায় তিন মাস আগে মামাতো বোন মুক্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে করেন সাকিব। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে পারিবারিক চাপে ২০ থেকে ২৫ দিন আগে মুক্তাকে তালাক দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর মুক্তা গাজীপুরের শ্রীপুরে তার বাবার কাছে চলে যান।
সেখানে সোমবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান মুক্তা। তার বাবা বাবুল মিয়া মেয়ের মরদেহ পুলিশের কাছে না জানিয়ে মোহনগঞ্জের তেতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে মুক্তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মঙ্গলবার সকালে নিজ ঘরের বারান্দায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায় সাকিবকে। পুলিশের ধারণা, সোমবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।
গাগলাজুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী লুৎফর রহমান বলেন, সাকিব দিনমজুর ছিলেন। কখনো মাছ ধরতেন, কখনো কৃষিকাজ করতেন। তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে এক মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। সম্প্রতি তাকে তালাকও দিয়েছেন। ওই মেয়েটি গতকাল মারা গেছেন। পরে সকালে সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিয়ে ও বিচ্ছেদের সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল আওয়াল বলেন, ‘দুইজনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা আত্মহত্যা করেছেন। বিচ্ছেদের কারণে হতাশা থেকে সাকিব এমনটি করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘মুক্তা শ্রীপুরে তার বাবার কাছে ছিলেন। সোমবার সেখানে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান। তার বাবা পুলিশকে না জানিয়ে মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘একই সময়ে দুইজনের মরদেহ থানায় আনা হয়। পরে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মুক্তার মৃত্যুর বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশকে অবহিত করা হবে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আপাতত অপমৃত্যুর মামলা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’