জুম্ম ছাত্র-জনতা ফ্রন্টের, দাবির সংখ্যা বাড়িয়ে এখন আট দফা!
খাগড়াছড়িতে শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচি সম্প্রতি রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলাতেও সম্প্রসারিত হয়েছে। জুম্ম ছাত্র-জনতা ফ্রন্ট ঘোষণা দিয়েছে, তারা তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ চালাবেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় তারা দাবির সংখ্যা বাড়িয়ে মোট আট দফা দাবি উপস্থাপন করেছে।
জুম্ম ছাত্র-জনতা ফ্রন্টের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তিন জেলায় অবরোধ এবং নতুন দাবিসমূহের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো ছাত্রনেতার স্বাক্ষর নেই।
আট দফা দাবির মূল বিষয়বস্তু:
১. আলোচনার প্রারম্ভকাল থেকে পরবর্তী সময়ে পর্যন্ত যেকোনো ধরনের হামলা, সহিংসতা বা ভীতি প্রদর্শন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনিভাবে বাধ্য থাকবে এবং তা নিশ্চিত করবে।
২. ধর্ষণ মামলার অবশিষ্ট দুই আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার আসামি চয়ন শীলের বিচার ত্বরান্বিত করে দণ্ড কার্যকর ও তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সংঘটিত লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুলিবর্ষণের সব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সংবেদনশীল আইনি তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। অফিসিয়াল তদন্ত প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে।
৪. নিরীহ ও নিরস্ত্র জুম্ম ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলা, দোকানপাট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে সৃষ্ট ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আহতদের সুচিকিৎসার দায়ভার জেলা/রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
৫. শান্তিপূর্ণ অবরোধ ক্ষুণ্ণ করা, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বিনা উসকানিতে আক্রমণ এবং জুম্ম আদিবাসীদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেসবের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার দিতে হবে।
৬. চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আটক সমস্ত জুম্ম ছাত্র-জনতাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত হামলাসমূহের স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৭. আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ছাত্র-জনতা প্রতিনিধি এবং অন্যান্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. ১৪৪ ধারা বাতিল করতে হবে।
দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বিজ্ঞপ্তিতে জুম্ম ছাত্র-জনতা ফ্রন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর ও সুসংগঠিত আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। এ ছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় পর্যটন কার্যক্রমও সাময়িক বন্ধ থাকবে।
ফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই ঘোষণায় তারা স্পষ্ট করেছেন, তাদের বোনের প্রতি হওয়া ন্যায়হীনতা, সাম্প্রদায়িক উৎপাত, সেনাবাহিনীর গুলিতে হত্যা বা সেটলারদের নির্মমতা সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। তারা জানিয়েছেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে তারা দাবি পূরণের জন্য সরকারের কাছে জোরদার চাপ তৈরি করবেন এবং কোনো প্রকার অবহেলা বরদাস্ত করবেন না।
তিন পার্বত্য জেলায় জুম্ম ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং অবরোধ ইতিমধ্যেই স্থানীয় জনজীবনকে ব্যাহত করছে। পর্যটনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এবং ব্যবসায়িক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।