মতপ্রকাশের চেয়েও বড় সমস্যা ক্ষমতাশালীদের প্রশ্ন করা: শহীদুল আলম
স্যাটায়ার, মিম ও কার্টুন প্রকাশের জন্য মামলা করা খুবই অযেক্তিক বলে উল্লেখ করে উদ্বিগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার
(৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এক আলোচনা সভায় এ বিষয়ে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
‘স্যাটায়ার, মিম ও কার্টুন: মতপ্রকাশ নাকি মর্যাদাহানি’ শিরোনামে এই সভার আয়োজন করে নাগরিক কোয়ালিশন ও স্যাটায়ার ম্যাগাজিন
‘ইয়ার্কি’। সভাটি সঞ্চালনা করেন ইয়ার্কির প্রধান সিমু নাসের।
সভায় নেলসন ম্যান্ডেলার
একটি কার্টুন আঁকার ঘটনা বর্ণণা করেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহীদুল আলম।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা ম্যান্ডেলা যেখানে তার ব্যঙ্গচিত্রকে
স্বাগত জানিয়েছিলেন, সেখানে বাংলাদেশে মিম বা স্যাটায়ারের জন্য মামলা দেওয়া হচ্ছে।’
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ‘ইয়ার্কি’সহ স্যাটায়ারভিত্তিক বেশ কয়েকটি পেজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলার
প্রেক্ষাপটে বাক-স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষার দাবিতে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।
শহীদুল আলম বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চেয়েও বড় সমস্যা হলো ক্ষমতাশালীদের প্রশ্ন করা
নিয়ে। যারা ক্ষমতায় থাকে, তাদের প্রশ্ন করলেই সমস্যা তৈরি হয়। অথচ প্রশ্ন না করা হলেই
বরং দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা বাড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজ যদি ভিন্নমত বা স্যাটায়ার সহ্য করতে না পারে তবে সেটি ভয়ংকর। সহনশীলতা
না থাকলে সমাজের পচন ত্বরান্বিত হয়।’
কার্টুনিস্ট মেহেদী হক
বলেন, ‘স্যাটায়ার হলো সভ্যতার সর্বোচ্চ স্তর। একটি সমাজ
কতটা সভ্য, তার নির্দেশক হলো সেই সমাজের মানুষ কতটা স্যাটায়ার নিতে পারে।’
গণতন্ত্রের সংজ্ঞা মনে
করিয়ে দিয়ে আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, শুধু আইন তৈরি বা নির্বাচন করাই গণতন্ত্র নয়।
অন্যের মত গ্রহণ করাও গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত। রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা মানহানির মতো পুরোনো
আইনগুলো ব্যবহার করে এখনো মানুষের মুখ বন্ধ করা হচ্ছে। শাসকগোষ্ঠীকে প্রশ্ন করার অন্যতম
মাধ্যম হলো মিম বা স্যাটায়ার।
মিম গবেষক সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ
বলেন, মিম হলো সবচেয়ে গণতান্ত্রিক হাতিয়ার। কৌতুকের মাধ্যমে মানুষের ক্ষোভ কমে। মিম
সহ্য করতে না পারলে জনগণও আপনাদের সহ্য করবে না।’
লেখক ও সংগঠক ফিরোজ আহমেদ
বলেন, আওয়ামী লীগের শুধু কার্টুন আঁকার কারণে কিশোরের (আহমেদ কবির কিশোর) মতো মানুষকে
নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এখন কার্টুনের সঙ্গে নারী হয়রানিকে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে আমরা কি আবার বিগত ফ্যাসিবাদের রীতির দিকেই ফিরে যাচ্ছি?
কার্টুনিস্ট ও রম্য লেখকদের
পাশে থাকার আশ্বাস দেন উন্মাদ-এর সম্পাদক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব।
মিম ও কার্টুনের জন্য হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান বক্তারা। একসঙ্গে কনটেন্ট নির্মাতা, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।