কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের জন্য জাহাজ চলাচল শুরু
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকদের জন্য জাহাজ চলাচল আজ শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে তিনটি জাহাজ আলাদা সময়ে রওনা দেয়। এসব জাহাজে ১১৭৪ জন পর্যটক রয়েছেন।
রাতে থাকার সুযোগ না থাকায় নভেম্বর মাসে পর্যটকবাহী জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে চলাচল বন্ধ ছিল।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার ভোর ৬টা থেকে পর্যটকেরা জাহাজে উঠতে শুরু করেন। এসময় জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর, টুরিস্ট পুলিশ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর প্রতিনিধিরা জেটি ঘাটে উপস্থিত ছিলেন।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে অ্যালুমিনিয়ামের পানির বোতল দেওয়া হয়।
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর অনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, আজ প্রথমদিন তিনটি জাহাজে ১১৭৪ জন পর্যটক কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি কমিটির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একদিনে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না। এটি নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। তবে প্রথমদিন অনলাইনে নিবন্ধন ছাড়া টিকিট বিক্রির অভিযোগে কেয়ারি সিন্দাবাদ নামের একটি জাহাজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জানা যায়, আজ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে রাত্রি যাপন করা যাবে। তবে দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক এই প্রবাল দ্বীপটিতে যেতে পারবেন না। কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ ছেড়ে যাবে। পরদিন বেলা ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে সেই জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস পর্যটকরা এই ভ্রমণ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে দ্বীপটিকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি সেন্ট মার্টিনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।