একাত্তরের স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ রাষ্ট্র: পরিবেশ উপদেষ্টা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে
ঘায়েল করতে যুক্তি-তর্কের বদলে হত্যাচেষ্টাকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের যে প্রবণতা
তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত। তিনি বলেন, ‘এটার মধ্যে কোনো বীরত্ব
নেই। আপনার যদি শক্তি থাকে, জনগণের মুখোমুখি হন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে সংস্কৃতি চলে এসেছে নতুন বাংলাদেশে তা গ্রহণ করার
কোনো সুযোগ নেই।’
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর)
সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে
আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার
পর থেকেই দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলেই গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের
প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে
তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং তিনি আশাবাদী এ
নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে একটি সুদৃঢ় যাত্রা শুরু হবে। তিনি বলেন, কেবল নির্বাচন
নয়, একটি গণভোটও হবে যেখানে সংস্কার প্রশ্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণ মতামত
জানাতে পারবে। জনগণের সেই মতামতের ভিত্তিতে গণতন্ত্রের যাত্রা ‘পরিবর্তিত আকারে’ শুরু
হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘৫৪ বছর
পরও যখন একটি গণঅভ্যুত্থান হতে হয়, তার অর্থ ৭১-এর স্বপ্ন ও প্রত্যাশা রাষ্ট্র পূরণ
করতে পারেনি। ’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি ভিত্তি
তৈরি হবে, যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে এবং সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য
করবে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্ন এখনও অধরা রয়েছে বলেও মন্তব্য
করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির
ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা
হাসান বলেন, স্বল্পমেয়াদি সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা ‘একভাবে’ বিচার করা ঠিক হবে না। তার মতে, দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাষ্ট্র ছিল ভেঙে পড়া অবস্থায়; সেই অবস্থা সামলে রাষ্ট্রকে
আবার পথে ফেরানোই ছিল প্রধান কাজ। তিনি বলেন, সরকার তখনই সফল বলা যাবে যখন সুষ্ঠু নির্বাচন,
বিচার ও সংস্কারের লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের চেষ্টা থাকবে মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারে। তবে নির্বাচন ব্যাহত করার জন্য একটি শক্তি কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে সরকারের দায়িত্ব জনগণকে আশ্বস্ত করা, যাতে ভয়ের সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি জানান, সরকার সে চেষ্টাই অব্যাহত রেখেছে।