ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্য দেবেন হাসনাত আবদুল্লাহ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সাক্ষ্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর)
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন
তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তিনি জবানবন্দি উপস্থাপন করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য
হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ
শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে,
হাসনাত আবদুল্লাহ এ মামলার ২২ নম্বর সাক্ষী। সকাল ১০টার পর তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির
হতে পারেন। এর আগে ২৭ নভেম্বর ১৮তম দিনের মতো ২১ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা
শেষ হয়। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল
৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলায় বর্তমানে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৬ জন পলাতক। পলাতক
আসামিদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন
চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। তাদের
উপস্থিতিতেই আজ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন।
এদিকে, গত ৩০ জুলাই পলাতক
আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত চার আইনজীবী। এর মধ্যে পাঁচজনের পক্ষে আইনজীবী
সুজাত মিয়া, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে আইনজীবী মামুনুর রশীদ এবং শুনানিতে
অংশ নেন আইনজীবী ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর
গাজী এমএইচ তামিম; সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার
পালোয়ান।
এর আগে ২৯ জুলাই তিন আসামির
পক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শরিফুলের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, কনস্টেবল সুজনের
পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এবং ইমরানের পক্ষে আইনজীবী সালাহউদ্দিন রিগ্যান শুনানি
করেন। ওই দিন তিনজনেরই অব্যাহতি চাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২৮ জুলাই প্রসিকিউশন
৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে। সেদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ
তাজুল ইসলাম আদালতে মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও বিস্তারিত তুলে ধরেন। মামলার আনুষ্ঠানিক
অভিযোগ আদালত আমলে নেয় ৩০ জুন। আর ২৪ জুন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা তদন্ত প্রতিবেদন
জমা দেন।