বাংলাদেশী নয়, বিদেশীরাই এখন দখলদার!
দুই বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি দেশের প্রথম আন্তর্জাতিকমানের কক্সবাজার রেলস্টেশন। ইজারা বা বরাদ্দ না দেওয়ায় স্টেশনের বেশিরভাগ স্থাপনা অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এমনকি এখন স্টেশন পরিচালনায়ও অপারগতা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে এর পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার রেলস্টেশনের পরিচালনা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। দরপত্রে অংশ নিতে হলে পাঁচতারকা হোটেল পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান চাইলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারেও (জেভি) অংশ নিতে পারবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা চাই, দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিদেশি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার রেলস্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব নিক। তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান চাইলে বিদেশিদের সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নিতে পারবে। এখন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে; মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই তা প্রকাশ করা হবে।”
২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর উদ্বোধন করা হয় চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ‘পর্যটক’ ও ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ নামে দুটি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে দুই বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিকমানের ছয়তলা এই স্টেশন ভবনটি।
রেলওয়ের হিসাবে, স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে প্রতি মাসে ইউটিলিটি খাতে খরচ হবে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা, যা তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই স্টেশনটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রী ছাড়া স্টেশন প্রায় ফাঁকা। চলন্ত সিঁড়িগুলো বন্ধ, কিছু জায়গা ব্যারিকেড ও আবর্জনার বিন দিয়ে আটকে রাখা। নেই কার্যকর টিকিট কাউন্টার বা দিকনির্দেশনা বোর্ড।
যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য একমাত্র টয়লেটটিও অনুপযোগী ছিল।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী,
নিচ তলায় থাকা কথা ৩টি দোকান, এটিএম বুথ, ডাকঘর ও লকার সুবিধা — কার্যকর নয়।
দ্বিতীয় তলায় ১৭টি দোকান ও ফুড কোর্ট থাকলেও কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।
চতুর্থ তলায় ৩৯ কক্ষবিশিষ্ট হোটেল সুবিধাও বন্ধ রয়েছে।
সব মিলিয়ে ২১৫ কোটি টাকায় নির্মিত স্টেশন ভবন এখন অচল অবকাঠামোয় পরিণত হয়েছে।
‘দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সক্ষম করতে হবে’
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচালনার অভাবে শত কোটি টাকার এই স্টেশন এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশিদের ওপর নির্ভর না করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সক্ষম করে তুলতে হবে—এটাই টেকসই সমাধান।”