আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা উঠছে শনিবার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের পর্দা উঠছে শনিবার (৩ জানুয়ারি)।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি)
মেলার উদ্বোধনের কথা থাকলেও বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার
মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে উদ্বোধন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।
ফলে তিন দিন পিছিয়ে শনিবার
সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (২
জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং
কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এবারের বাণিজ্য মেলায় ভারত,
তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, মালয়েশিয়াসহ ১১টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন অংশ নিচ্ছে। দেশ-বিদেশের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে ৩২৪টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির
ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে পলিথিন ব্যাগ
ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
মেলায় প্রবেশের জন্য টিকিটের
মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী
ব্যক্তি ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ
করতে পারবেন।
দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার
ও বিপণনের পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ৩০ বছর ধরে নিয়মিতভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক
বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
ইপিবি সূত্র জানায়, দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খামারবাড়ি/খেজুরবাগান), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিআরটিসির ২০০টিরও বেশি নির্দিষ্ট শাটল বাস মেলার উদ্দেশে চলাচল করবে। পাশাপাশি ছাড়কৃত হারে পাঠাও সার্ভিস যুক্ত করা হয়েছে।
বিদেশি উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার, শিশুদের বিনোদনের জন্য দুটি শিশু পার্ক এবং উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেলার প্রবেশ গেট, পার্কিং এলাকা ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা।
খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্যদের সমন্বয়ে প্রতিদিন ভেজালবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। মেলায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে
প্রিমিয়ার রেস্টুরেন্ট, প্রিমিয়ার মিনি রেস্টুরেন্ট ও কফি শপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ
ছাড়া এক্সিবিশন সেন্টারের ভেতরে ৫০০ আসনবিশিষ্ট একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে। ৫০০টির বেশি গাড়ি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন দোতলা পার্কিং ভবনের পাশাপাশি এক্সিবিশন হলের বাইরে ছয় একর জমি ও রাজউকের গরুর হাট মাঠসহ তিনটি বিস্তৃত পার্কিং এলাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেলার সার্বিক কার্যক্রম তদারকিতে থাকছে অস্থায়ী সচিবালয় ও তথ্যকেন্দ্র।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, মেলার নিরাপত্তায়
৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনী এবং আনসার সদস্যও
থাকবেন। চারটি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে আইন অনুযায়ী জরিমানা
ও শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।