৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে আসছে শনিবার
সুদানে
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর
মরদেহ আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দেশে পৌঁছাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি
রক্ষায় জীবন দেওয়া এই বীরদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট
সূত্র জানায়, শহীদ শান্তিরক্ষীদের মরদেহ বহনকারী বিমানটি শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা
৭টায় উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। আজ বেলা ১১টা ১৫
মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণের কথা রয়েছে।
শহীদ
শান্তিরক্ষীরা হলেন- কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা,
শান্ত মণ্ডল, মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।
এ
ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন শান্তিরক্ষী। তারা হলেন- কুষ্টিয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল
খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার কর্পোরাল
আফরোজা পারভিন ইতি, বরগুনার ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো.
মেজবাউল কবির, রংপুরের সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, মানিকগঞ্জের সৈনিক চুমকি আক্তার
এবং নোয়াখালীর সৈনিক মো. মানাজির আহসান।
আহতদের
মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সফল
অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বাকিরা শঙ্কামুক্ত বলে জানা
গেছে। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
বিশ্বশান্তি
প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে শহীদদের এই আত্মত্যাগ। দেশেই নয়- শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিশ্বের নানা প্রান্তে জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব
পালন করেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের অধীনে শান্তি ও
স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালনের সময় ছয়জন বাংলাদেশি সেনাসদস্যের শাহাদাতবরণ
তারই সাম্প্রতিক ও হৃদয়বিদারক উদাহরণ।
জাতিসংঘ
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সুদানে দায়িত্ব
পালনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, সাহস ও আত্মত্যাগ বিশ্ববাসীর সামনে আবারও
প্রতিফলিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আহত আটজনের মধ্যে তিনজন নারী সেনাসদস্য। জাতিসংঘ
শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী পাঠানো ১১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ
দীর্ঘদিন ধরেই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।