নিরাপত্তার জন্য ভারতে কয়েকটি মিশন থেকে ভিসা ইস্যু বন্ধ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
নির্বাচনের আগে ভারতীয়দের
জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা (পর্যটন ভিসা) স্থগিত কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেছেন, আমাদের এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। যেটা করেছি, সেটা হলো, যে মিশনগুলোতে
সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে আমরা আপাতত ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখতে বলেছি। কারণ, এটা নিরাপত্তার
বিষয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি)
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন
করেন, তিনটি জায়গা থেকে ভিসা দেওয়া বন্ধ রয়েছে কি না। জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,
‘হ্যাঁ, তিনটি জায়গায়।’
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে,
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশের
ভিসা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন, মুম্বাইয়ের উপহাইকমিশন,
চেন্নাইয়ের সহকারী হাইকমিশনে এবং গুয়াহাটির সহকারী হাইকমিশন থেকে ভিসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত গত বছরের ২২ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন অনিবার্য কারণে কনস্যুলার ও ভিসা সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণার নোটিশ জারি করে। ওই ঘোষণায় বলা হয়, অনিবার্য কারণে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভিসা ও সব ধরনের কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত জারি থাকবে। একই দিনে অর্থাৎ গত বছরের
২২ ডিসেম্বর আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন ওই মিশনে একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে
নোটিশ জারি করে।
পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান
কেনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর
রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছে বাংলাদেশ। আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায়
নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যেটা বলেছেন, আমি তা সম্পূর্ণ সমর্থন করি। আমি এটাকে এভাবে দেখি, একজন ক্রিকেটার সীমিত সময় ওখানে যাবে, খেলবে, তারপর হোটেলে চলে আসবে।
তার নিরাপত্তা যদি দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের যে দল খেলতে যাবে,
শুধু দল যাবে না, দলের সমর্থকেরা যাবে খেলা দেখতে, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
আমরা কী করে বিশ্বাস করব
যে তারা নিরাপদ থাকবে? যে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বাংলাদেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং কথাবার্তা
বলছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আসলে সত্যিকার অর্থেই ভারতীয় সংস্থাগুলোর পক্ষে সবাইকে
নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন হবে। সেই হিসেবে আমরা আসলে খেলব, কিন্তু ভারতের বাইরে খেলব,
যেখানে এ সমস্যা হবে না।’
বিষয়টি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়ে প্রভাব ফেলবে কি না, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘নতুন করে এই ইস্যুটা (মোস্তাফিজ) এসেছে। কিন্তু এ রকম বিভিন্ন ইস্যু বিভিন্ন সময় আসছে। প্রত্যেকটিরই কিছু নেতিবাচক প্রভাব তো থাকবেই।
কিন্তু আমরা আমাদের স্বার্থ যেখানে আছে, যদি থাকে, সেখানে আমরা কিছু নষ্ট করতে যাব না। এখানে আমাদের স্বার্থ আছে, তা হচ্ছে না যাওয়াতে।
কারণ, আমাদের এখানে আমাদের লোকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। কিন্তু আমাদের
চাল কেনাতে যদি স্বার্থ থাকে, যদি আমরা কম দামে পাই এবং আমাদের কিনতেই হয়, তাহলে ভারত
যদি আমাদের এখানে চাল রপ্তানি করে, তাতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।’