‘এ সরকারের আমলে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু সম্ভব নয়’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয়
টার্মিনাল চালু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ
তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য আমাদের প্রাণান্ত চেষ্টা
ছিল। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে জাপানিজ ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমরা দর
কষাকষি করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা সম্ভবত সফল হয়নি।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, 'এটার যেসব পদ্ধতিগত প্রয়োজন রয়েছে পরবর্তী কর্মকাণ্ডের
জন্য, সেসব আমরা সচল করার জন্য বর্তমানে নিয়োজিত আছি। পরবর্তী সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত
নেবে।'
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রাথমিক
উদ্বোধন করা হয়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গরূপে টার্মিনালটি চালুর প্রতিশ্রুতি
দেয় তৎকালীন সরকার।
তবে ঘন ঘন প্রকল্পের নেতৃত্বে পরিবর্তন, বিদেশ থেকে কিছু উপকরণ আনতে
বিলম্ব এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সময়সীমা পিছিয়ে যায়।
মোট প্রকল্প খরচের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। বাকি অর্থ
এসেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ থেকে।
২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর ফ্লোর স্পেস
২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এতে রয়েছে ১১৫টি চেকইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন
ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন এবং তিনটি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক।
টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং
ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে পৌঁছাবে। যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বছরে
২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে।